মক্কার মসজিদে হারাম ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান, যা পবিত্র কাবাকে ঘিরে অবস্থিত। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) প্রথম কাবা নির্মাণ করেন। অপরদিকে মসজিদে নববি হজরত মুহাম্মদ (সা.) কর্র্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ, যা সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত।
গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদে হারামের পর মসজিদে নববির স্থান। হজরত মুহাম্মদ (সা.) হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়। নির্মাণের পর অনেকবার পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হয়েছে মুসলমানদের এই পবিত্র দুটি মসজিদ।
বর্তমানে যে ডিজাইনে মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববি দৃশ্যমান। তা সংস্কারে একজন মিসরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি ভূমিকা রেখেছেন। তিনি খ্যাতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন বলে অনেকেই তাকে চেনেন না। কিন্তু পবিত্র দুই মসজিদের সম্প্রসারণের তত্ত্বাবধান ও নকশা তৈরির কৃতিত্ব, মাতাফে তাপনিরোধক পাথর স্থাপন, বৈদ্যুতিক গম্বুজ ও ছাতার ধারণাও তার মস্তিষ্কপ্রসূত। সেই মহান স্থপতির নাম ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইল। তিনি মিসরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং রয়েল স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়া এবং স্নাতক অর্জন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি। সবচেয়ে কম বয়সে ইসলামি আর্কিটেকচারে তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রাপ্তির জন্য ইউরোপে গিয়েছিলেন। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনিই প্রথম প্রকৌশলী, যিনি মক্কা ও মদিনা মসজিদ সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন। বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি ডিজাইন এবং স্থাপত্যকর্ম তদারকির জন্য কোনো প্রকার অর্থ গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাদের দেওয়া টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, কেন এই কাজের জন্য অর্থ গ্রহণ করব? তাহলে আমি কীভাবে বিচার দিবসে আল্লাহকে মুখ দেখাব? তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যান। এরপর আর বিয়ে করেননি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পূর্ণ সময় ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করেছিলেন। ২০০৮ সালের ২ আগস্ট তিনি ৯৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
মাওলানা ফজলুল হক
