কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় রাজাখালী ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নিয়ন্ত্রিত বেড়িবাঁধের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে সাগর উপকূলবর্তী এ ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টে সংস্কার না করা হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে সাগরের জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে পুরো ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উপকূলবর্তী রাজাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম অংশে কুতুবদিয়া চ্যানেল তীরবর্তী পেচু মিয়ার বাড়ি থেকে বকশিয়া ঘোনা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পাউবোর বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পাউবো নিয়ন্ত্রিত এ বেড়িবাঁধ গত ৫ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এভাবে সংস্কারবিহীন থাকলে বেড়িবাঁধ অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে বলে স্থানীয়দের শঙ্কা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম অংশে মাটির বেড়িবাঁধের খুবই বেহাল অবস্থা। বাঁধের কিছু অংশে সিসি ব্লক বসানো হয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় কোনো সিসি ব্লক বসানো হয়নি। মাটির বেড়িবাঁধ ক্ষয়ে গিয়ে সংস্কারবিহীন পড়ে আছে দীর্ঘদিন। গত পাঁচ বছরে এই বাঁধের বিভিন্ন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে বাঁধ প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। সাগরের অমাবস্যা আর পূর্ণিমার জোয়ারের পানির স্রোতে বেড়িবাঁধ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। তিন কিলোমিটারের মধ্যে সর্বাধিক ঝুঁকিতে আছে দেড় কিলোমিটার এলাকা। স্থানীয় পেচু মিয়ার বাড়ি থেকে পশ্চিম অংশে এবং দক্ষিণ অংশে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। জোয়ারের পানির প্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয়রা সেখানে রিং বাঁধ দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমেই ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধে মাটি ভরাটের কাজ না হলে রাজাখালী ইউনিয়ন সাগরের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেড়িবাঁধের আশপাশে বসবাসরত দশ হাজার মানুষের জানমাল রক্ষা করতে দ্রুত সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী সুমন বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ুতে পরিবর্তন এসেছে। সাগরের পানির উচ্চতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেকুয়ার রাজাখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েক বছর যাবৎ বাঁধ করবে বলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে সাগরের লোনাপানি প্রায় সময় লোকালয়ে প্রবেশ করছে। আগে উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের বাইরের চরে বন বিভাগের ঝাউ ও প্যারাবন ছিল। সময়ের পরিক্রমায় স্থানীয় সংঘবদ্ধ বনদস্যুরা তা কেটে উপকূলকে অরক্ষিত করে তুলেছে। সে কারণেও সাগরের পানি সরাসরি বেড়িবাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া ও চকরিয়ার বেড়িবাঁধগুলো পাউবোর কক্সবাজার জেলার অধীন হলেও কয়েক বছর আগে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বান্দরবান পাউবোর অধীনে ন্যস্ত করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পেকুয়ায় পাউবোর শাখা কার্যালয় না থাকায় কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না।
পাউবো বান্দরবান এর নির্বাহী প্রকৌশলী অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারে বরাদ্দ চেয়ে পাউবোর সদর দপ্তরে প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাজাখালীতে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হবে।’
