সিজিপিএ শর্ত শিথিল করে প্রমোশনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। আটক করা হয় ছয় শিক্ষার্থীকে।
এর আগে বুধবার রাত ৮টা ১৪ মিনিটের দিকে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ১০ মিনিট সময় বেঁধে দেয় পুলিশ। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সরে না যাওয়ায় পুলিশ লাঠিপেটা করে। ঘটনাস্থল থেকে আটক শিক্ষার্থীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এর আগে দুপুর ১২টায় নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে সাত কলেজের শিক্ষকরা এসে আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের ইডেন কলেজের সামনে নিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। আন্দোলনরত অন্য শিক্ষার্থীরা ইডেন কলেজের সামনে অবস্থান করেন। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের ছয়টি দাবি মেনে নিলেও প্রশাসন দাবিটি মানেনি। ফলে দুপুর ২টার দিকে এক দফা দাবিতে ইডেন কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে নীলক্ষেতে এসে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পরে রাজধানীর অন্যান্য সড়কেও। তীব্র ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।
এর আগে গত মঙ্গলবারও নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপক ওবায়দুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর মধ্যে ছয়টি মেনে নেওয়া হয়েছে। আরেকটি দাবির বিষয়ে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ও সমন্বয়ক অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির সঙ্গে কথা বলেছেন।
অবরোধের পর থেকে শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার অনুরোধ জানান ডিএমপির রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহেন শাহ্ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে জনভোগান্তি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনা করতে সাত কলেজের শিক্ষক ও সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বলেছি।’
