শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল অক্টোবরে আংশিক চালু

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৩, ০১:৩৬ এএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আসছে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে টার্মিনালটি আংশিক চালু করা হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার নির্মাণাধীন টার্মিনাল ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। নির্মাণকাজের অগ্রগতির বিষয় জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মফিদুর রহমান বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি আমরা। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধনের (সফট ওপেনিং)। এজন্য প্রকল্প এলাকায় দিন-রাত কাজ চলছে। আপনারা জানেন আজ (গতকাল) থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে তিন-চার হাজার শ্রমিক ছুটিতেও কাজ করে যাবেন। তারা শুধু ঈদের দিন কাজ করবেন না, এরপরের দিন থেকে তারা আবার কাজ শুরু করবেন।’

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অক্টোবরের আগে প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে চাই। আশা করি সময়ের আগে কাজ শেষ হবে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৭৭.৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অক্টোবর মাসে সফট উদ্বোধন হলেও এ টার্মিনাল পুরোপুরি ফাংশনাল হবে ২০২৪ সালে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন শুধু ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। লিফট, এসকেলেটর লাগানো, টাইলসের কাজ চলছে। এখানে আরও অনেক সিস্টেম ইনস্টলের কাজ চলছে। এসব ইনস্টলেশনের কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে মফিদুর রহমান বলেন, ‘বোর্ডিং ব্রিজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্র লাগানোর পর এগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের সবকিছু বুঝিয়ে দেবে।’

প্রকল্পে আর বাড়তি অর্থ লাগবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি গর্ব করে বলতে পারি এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে আমাদের অতিরিক্ত কোনো অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে না। এই একটা মাত্র প্রকল্প যেখানে আমরা কিছু সাশ্রয় করেছিলাম। কিছু টাকা বেঁচে যাওয়ার কারণেই কিন্তু আমরা অতিরিক্ত কাজ করার সাহস করেছি। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বেঁচে যাওয়া টাকা দিয়ে অতিরিক্ত কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। এজন্য বাড়তি অর্থের প্রয়োজন আছে বলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমাদের জানিয়েছে।’

প্রকল্পে জাপানের প্রতিষ্ঠান জাইকা আর্থিক সহযোগিতা করছে উল্লেখ করে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাদের আমরা জানিয়েছি অতিরিক্ত কাজের জন্য আমাদের কিছু অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন। তারা আমাদের বলেছে বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে।’

গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ কারা করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের বিষয়টি পিপিপি দেখছে। যতটুকু জানি আমাদের একটি বন্ধু রাষ্ট্রের অনুরোধে সে দেশের একটি কোম্পানিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ দেওয়া হতে পারে। তবে তাদের কী টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনে (বিধি ও শর্তে) দেওয়া হবে, সেটা জানি না। পিপিপি এ বিষয়ে ফিজাবিলিটি স্টাডি করছে এবং কী কী টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনে করা যায় সে বিষয়ে কাজ করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত