ট্রলার-ফিশিংবোট মেরামতে ব্যস্ত কারিগর-শ্রমিক   

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৩, ০৪:১৮ পিএম

সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সুযোগে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজের বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে ডকইয়ার্ডে এখন ট্রলার-ফিশিংবোট মেরামতে পড়েছে ধুম। কারিগর-শ্রমিকদের টুংটাং শব্দে কর্মব্যস্ত সময় কাটছে সকাল-সন্ধ্যা। তবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় মেরামতের খরচ বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বুরাগৌরাঙ্গ নদীর তীরের দুইটি ডকইয়ার্ডে চলছে মহাকর্মজজ্ঞ। শ্রমিকরা কেউ কেউ ডকইয়ার্ডে আসা ট্রলার টেনে তুলছেন। আবার কোথায় কি ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ণয় করছেন কারিগরেরা। মেরামতের দেন-দরবার করে শুরু করছে কাজ।

ডকইয়ার্ডের কারিগর-শ্রমিকরা বলেন, সাগরে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডকইয়ার্ডে মাছ ধরার ট্রলারের মেরামতের জন্য এখন ভিড়, এ কারনে বেড়েছে কাজ। তারা আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন ট্রলারগুলো ঘাটে আসে। তাই এই সুযোগে মালিকপক্ষ ট্রলার মেরামত করে নেয়। মালামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌযান মেরামতের খরচও বেড়েছে। প্রতিটি নৌযান মেরামত করতে আকারভেদে ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একটি ফিশিংবোটের যাবতীয় কাজ শেষ করতে ৬/৭ দিন সময় লাগে বলেও জানান তারা।

ডকইয়ার্ড মালিক আজাদ সাথী বলেন, ‘সাগরে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে উপকূলীয় এলাকার সমুদ্রগামী জেলেরা তাদের ট্রলার-ফিশিংবোটের বডি ও ইঞ্জিনের মেরামতের কাজগুলো সেরে নিচ্ছে। বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে ২০১৮ সালে একটি ও ২০২২ সালে আমার ডকইয়ার্ড টি গড়ে ওঠে। কিছুদিন আগেও অলস সময় কেটেছে। ডকইয়ার্ডের কারিগর-শ্রমিকদের। কিন্তু এখন সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে। এ কারনে বেড়েছে তাদের রোজগার।’

মেরিন ফিশারিজ অফিসার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘সমূদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেরা অলস বসে না থেকে তাদের জাল-নৌকা মেরামতের যে কাজ করছে এটি তাদের জন্যই ভালো। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে জেলেরা আবারও মাছ শিকার করতে পারবেন। নিষেধাজ্ঞার এসময় জেলেরা মাছ শিকার বন্ধ রাখায় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত