শান্ত-হৃদয়দের দেখতে সিলেটে দর্শকের জোয়ার

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৩, ০২:০৮ এএম

ছুটির দিনের সন্ধ্যা। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও সকাল থেকেই আকাশ ছিল রৌদ্রজ্জ্বল। তবে মাঝে মাঝে কালো মেঘ উঁকিঝুকি দিচ্ছিল। মেঘ-সূর্যের লুকোচুরির মাঝেও মনে আশা জেগেছিল সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমিদের। সাকিব-তাসকিনদের যে কাছ থেকে দেখতে চান তারা। সঙ্গে বাড়তি উন্মাদনা নাজমুল শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়। তাদের দেখতে ভিড় জমে খেলা শুরুর আগে থেকেই।

ম্যাচ শুরু হতে তখনও ঘণ্টা খানেক বাকি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভিড় জমে তারও আগে থেকে। ম্যাচের আগের দিনই টিকেট কাউন্টারে ভিড় দেখা গিয়েছিল। আজও অনেককে মাঠে এসে টিকেট কিনতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার ফিরে গেছেন হতাশ হয়ে।

ফিরে যাওয়াদের একজন এহসান আহমেদ। নগরের চৌকিদেখি এলাকার কলেজ পড়ুয়া জানালেন বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিলেন খেলা দেখতে। কিন্তু টিকেট না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘শান্ত আর হৃদয়ের খেলা দেখতে এসেছিলাম বন্ধুরা মিলে। কিন্তু কাউন্টারে টিকেট পাইনি। ব্ল্যাকে অনেকে বিক্রি করছেন। তবে সেগুলোর দাম বেশ চওড়া। এত টাকাও আমাদের সঙ্গে নেই। তাই খেলা দেখতে পারছি না।’

নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয় সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমিদের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন। খেলা চলাকালে গ্যালারিতে শান্তর নামে জয়োধ্বনি দিতে দেখা গেছে। পরে হৃদয় ম্যাচ জিতিয়ে ফিরলে তাদের আনন্দের সীমা ছিল না। এই দুই ক্রিকেটার যে তাদের ঘরের ছেলে!

খটকা লাগল! হৃদয় বগুড়ার আর শান্ত রাজশাহীর ছেলে। সিলেটের ঘরের হয় কি করে? নাহ! তারা সিলেটেরই ক্রিকেটার। কারণ সবশেষ বিপিএলে দুজনই খেলেছেন নবাগত সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে। দুজনেই ব্যাট হাতে টুর্নামেন্টে ছিলেন ‍দুর্দান্ত। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন শান্ত। হৃদয়ও ছিলেন সেরা পাঁচে। এমন ধারাবাহিক ছন্দের কারণেই সিলেট চোখের মণি হয়েছেন তারা। তাই তো কাছে এসেও তাদের দেখতে না পেয়ে হতাশ এহসানরা।

image নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ছবি: মোশারফ হোসেন ভুবন

শুধু সিলেট শহরেরই নয়। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এসেছিলেন খেলা দেখতে। হবিগঞ্জ থেকে এসেছিলেন রেদোয়ান আহমেদ শিহাব। দূর থেকে এসে খেলা দেখতে পেয়ে খুব খুশি তিনি।

সুনামগঞ্জ থেকে এসেছেন মনিরুল ইসলাম ও মাজহারুল ইসলাম। তারাও এসেছেন শান্ত-হৃদয়দের খেলা দেখতে। বলেছেন, ‘শান্ত-হৃদয় দুজনেই ভালো ক্রিকেটার। তারা এবার সিলেট স্ট্রাইকার্সকে বিপিএলের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। তবে তারা খেলেছে দুর্দান্ত। আজ মাঠে সরাসরি তাদের খেলা দেখতে এসেছি।’

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্যানুসারে সিলেট বিভাগের মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৮৬৩ জন। যার মধ্যে সিলেট জেলাতেই বাস ৩৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭ জন মানুষের। সেই শহরে আছে ১৮ হাজার ধারণ ক্ষমতার একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এমনিতেই সিলেটের মানুষ ক্রীড়াপ্রেমি। পাড়ার কোনো টুর্নামেন্টেও শত শত মানুষের উপস্থিতি থাকে। আর যদি হয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলা তবে তো কথাই নেই। ভিড় তো লেগেই থাকবে। তাই অনেক মানুষকেই ফিরে যেতে হয় হতাশ হয়ে। যারা দেখতে পারেন না প্রিয় দলের খেলা। তবুও আজ অতিরিক্ত অনেকেই টিকেট পেয়েছিলেন। আসন ফাঁকা না থাকায় দাঁড়িয়ে দেখেছেন খেলা।

image সিলেটের গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ম্যাচের সময় যত গড়িয়েছে, দর্শকের সংখ্যা তত বেড়েছে। ছবি: দেশ রূপান্তর

তাদেরই একজন কবির আহমেদ। নগরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘টিকেট পেয়েছে অনেকে। কিন্তু আসন ফাঁকা ছিল না। তাই দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে হয়েছে। কেউ গ্যালারির উপরে ফাঁকা জায়গায়, কেউ গ্রিন গ্যালারিতে। আমিও এভাবেই দাঁড়িয়ে দেখেছি। তাতে কোনো দুঃখ নেই। খেলা দেখতে পেরেছি, এটাই অনেক আনন্দের।’

কবিরের মতো অন্তত আরও সহস্রাধিক মানুষ এভাবে খেলা দেখেছেন। কিন্তু অনেকেই পারেননি। ফিরে গেছেন খেলা দেখতে না পেয়ে। তাতে চাপা ক্ষোভ অভিমান হয়েছে। তবুও এই দর্শকরা সামনের ম্যাচের আগেই এই কথা ভুলে যাবে। বরাবরের মতোই হাজির হবে মাঠে। প্রেরণা দেবেন ক্রিকেটারদের। পঞ্চপাণ্ডবের পর শান্ত-হৃদয়রা এখন জায়গা করে নিয়েছেন স্থানীয়দের মনে। আর তাদের দেখতেই গ্যালারিতে জোয়ার উঠবে সিলেটের ক্রিকেট প্রেমিদের, যেমনটা উঠেছিল শুক্রবার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত