গরমে ঘামাচির প্রতিকার ও চিকিৎসা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩, ১০:১২ পিএম

ভ্যাপসা গরমের এই সময়ে শরীরে দানাদার ঘামাচি বা চর্মরোগের ভুক্তভোগী হননি এরকম মানুষ নেই বললেই চলে। শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ সবাই কম-বেশি এই সমস্যায় ভুগেছেন। আমাদের শরীরে অসংখ্য  ঘাম গ্রন্থি আছে সেগুলো মূলত দুরকমের হয়ে থাকে। সেগুলো হলো ‘একরাইন’ এবং ‘এপোক্রাইন’।

মূলত ৯০% ঘাম গ্রন্থি হচ্ছে এক্রাইন গ্লান্ড। এই গ্লান্ড বা গ্রন্থি যদি কোনো কারণে বন্ধ বা ব্লক হয়ে যায়, তখন সেখানে কিছু ছোট আকারের র‍্যাশ দেখা যায়। এই র‍্যাশগুলোর পেছনটা লালচে হয়ে থাকে। এই ছোট র‍্যাশগুলো যখন বেড়ে যায়Ñ তখন শরীরে অতিরিক্ত ঘাম বের হয়। এ রকম র‍্যাশকে হিট র‍্যাশও বলা হয়ে থাকে। মেডিকেলের ভাষায় একে বলা হয় ‘মিলিয়ারিয়া’।

কারণ : যেহেতু ঘাম গ্রন্থি ব্লক হয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয় সেহেতু যখন শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হবে সেখানেই এই র‍্যাশ দেখা যাবে। গরম পরিবেশ, শক্ত ও টাইট জামা কাপড় পরিধানেও এই সমস্যা বেড়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রসাধন ব্যবহারের ফলেও এরকম হতে পারে। তৈলাক্ত কোনো কিছু ব্যবহার করার মাধ্যমেও ঘামাচি বেড়ে যেতে পারে। যেহেতু গরমে এমনিতেই ঘামের কারণে এক্রাইন গ্রন্থি ব্লক হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে তাই এই সময় ভারী ও সিনথেটিক কাপড় পরিধান করা কিংবা প্রসাধন ব্যবহার কিংবা তৈলাক্ত প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণেও ঘামাচি বেশি হতে পারে।

প্রতিকার : ঠান্ডা পানিতে গোসল। বসবাসের ঘরে বাতাসের ব্যবস্থা রাখা, রুম খোলামেলা রাখা। পাতলা এবং সুতি কাপড় পরিধান করা।

চিকিৎসা : যাদের ঘামাচি হয়, তাদের প্রচন্ড চুলকানি হয়ে থাকে। তাই বাজারে আইসকুল পাউডার বা ঘামাচি পাউডার পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে এসব বেশ ভালো আরাম দেয়। তবে এসব পাউডার ভালো প্রডাক্টের হতে হবে। দুবেলা করে ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে চোখ এবং মুখে যেন এই লোশন না যায়। চুলকানির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন করতে হবে। যদি অতিরিক্ত চুলকানি থাকে তখন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে ওষুধ নিতে হবে। যে কোনো প্রয়োজনে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত