আইন অনুযায়ী শুধু পরিবার এবং নিকটাত্মীয় ছাড়া কেউ কিডনি দিতে পারেন না। কিন্তু পরিবার বা নিকটাত্মীয়ের বাইরে এক অনাত্মীয়ের কিডনি কিনে সেই কিডনি প্রতিস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এই হাসপাতালে প্রথমবারের কিডনি প্রতিস্থাপনে দাতার পরিচয় গোপন করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কিডনি কিনেছেন গ্রহীতা। কিডনিদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে যে সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, সেটি মিথ্যা।
হাসপাতালের সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিডনিদাতা ও গ্রহীতা ভাই না হলেও তাদের মধ্যে ভাই সম্পর্ক দেখিয়ে কিডনি দান করা হয়েছে। কিডনিদাতার নাম বলা হয়েছে সুসেন রায় এবং গ্রহীতা সুজন রায়। অথচ সুসেনের আসল নাম সুমিত হাওলাদার। এছাড়া তারা আসলে কোনো ধরনের আত্মীয়ও নন।
বিএসএসএমইউয়ের একটি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এবং সম্পর্ক লুকিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করানো সম্ভব নয়।
এই অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি করেছে বিএসএমএমইউ। এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখিনি। চিকিৎসকরা যা বলেছেন সেই সূত্র ধরেই ভর্তি করেছি। শোনার পর খুবই অবাক হয়েছি। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততার সঙ্গে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এলে বলা যাবে আসলে ঠিক কী ঘটেছিল।
জানা গেছে, হাসপাতালের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মো. মহছেন চৌধুরীকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেনÑ পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক আতিকুল হক, গাইনি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম ও বিএসএমএমইউয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন।
সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালে যিনি কিডনি দিয়েছেন তার নাম সুসেন রায় নন। দাতা ও গ্রহীতা সম্পর্কে ভাই নন। কিডনিদাতাকে গ্রিসে পাঠানো হবেÑ এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিনিময়ে কিডনি নেওয়া হয়েছে। কিডনিদাতা হাসপাতালের চতুর্থ তলায় আইসিইউতে আছেন। কিডনি গ্রহীতা সাততলার পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের (অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ওয়ার্ড) আইসিইউতে রয়েছেন।
