ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চাপোড় এলাকার জেআর অটো রাইস মিলের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে দুই বছর আগে। কিন্তু লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করে মিলটি পুরোদমে চাল উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা সৈয়দপুর ইউনিয়নের কিং সৈয়দপুর গ্রামের চৌধুরী এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ অটো রাইস মিলেরও। জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ উপজেলায় প্রায় ১২৫০ হাসকিং মিল রয়েছে। ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর পীরগঞ্জের ১০৫টিসহ জেলার ৪৮০টি হাসকিং মিলের লাইসেন্স বাতিল করে খাদ্য বিভাগ। একই সঙ্গে মিলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য পল্লীবিদ্যুৎ কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। কিন্তু বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না করায় লাইসেন্স বাতিল হওয়া অধিকাংশ মিলই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বোরো সংগ্রহ মৌসুমে চুক্তি না করা এবং চুক্তি করার পরও কোনো চাল সরবরাহ না করায় ২০২১ সালে জেলার ৪৮০টি হাসকিং মিলের মিলিং এবং মিলের নামীয় খাদ্যশস্যের ব্যবসায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে সেসব মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঠাকুরগাঁও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি মিলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির পীরগঞ্জ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই। কারণ অন্য দপ্তরের নির্দেশনা বা অনুরোধ আমরা পালন করব কেন? আমাদের দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
লাইসেন্স বাতিল হওয়া সত্ত্বেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জে আর অটো রাইস মিলের ম্যানেজার সোহাগ বলেন, ‘লাইসেন্সের জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক জিয়াউল ইসলাম শাহ বলেন, ‘উপজেলায় বর্তমানে ৯৬টি বৈধ মিল রয়েছে। যারা সরকারের সঙ্গে এবার চুক্তিও করেছেন। যাদের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে তারা অনেকে ব্যবসা করছেন বলে শুনেছি। বিষয়টির প্রতি আগে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার নজির বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’
