ফেনীতে বিএনপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে হামলা, সংঘর্ষ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বেশিরভাগ অজ্ঞাতনামা আসামি। এ অবস্থায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মী এখন বাড়িছাড়া। তারা আত্মগোপনে আছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় গত শুক্রবার ১ হাজার ৬৫১ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেন সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুটি মামলা করে পুলিশ। ওই দুই মামলায় ২০৮৮ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে আমজাদ হোসেন উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামী লীগের শান্ত ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা নিয়ে তারা শহরের ট্রাংক রোডের প্রেস ক্লাবের দক্ষিণ পাশে খাজা আহম্মদ সড়কের মাথায় পৌঁছালে (বাঁশপাড়ার মোড়) আসামিরা অতর্কিত হামলা করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই তিনটি মামলায় গতকাল রবিবার বিকেল পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সফিকুর রহমান।
এদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় দুই হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হলেও আতঙ্কে ঘরছাড়া রয়েছেন নেতাকর্মীরা। পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মামলা করেছেন। পুরো জেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। যাতে গ্রেপ্তারের ভয়ে কেউ আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ না করতে পারেন। এত বেশিসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে, যাতে কোনো সাধারণ সমর্থকও কর্মসূচিতে মাঠে থাকতে না পারেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, হামলা করে মামলা দিয়ে বিএনপিকে মাঠছাড়া করা যাবে না। সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতেই হবে। গ্রেপ্তার এড়াতে নেতাকর্মীরা ঘর ছাড়লেও এলাকা ছাড়েননি।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হায়াত উল্যাহ বাদী হয়ে পুলিশের কাজে বাধা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন। আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ লোকজন যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা হবে।
ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
