রাজধানীর মালিবাগের রেলগেট এলাকার ফুটপাতে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে শরবত, পোশাক ও জুতার দোকান। এগুলো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকার বেশি চাঁদা তোলা হয়। এই টাকার ভাগ নিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী হাবিব আহসানের সঙ্গে বিরোধে জড়ান যুবলীগ নেতা অলিউল্লাহ রুবেল। এ ছাড়া মালিবাগ কাঁচাবাজার থেকে তোলা মোটা অঙ্কের চাঁদার ভাগ ও পানির ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আরেক সন্ত্রাসী শাহজালালের সঙ্গে বিরোধে জড়ান রুবেল। এসব ঘটনার জেরে খুন হন তিনি।
রুবেল হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলবাগে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রুবেলকে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তানজিনা দেওয়ান বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এখন পর্যন্ত ডিবি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আটজনকে এবং র্যাব দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত শনিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ডিবি মতিঝিল বিভাগ অভিযুক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন হাবিব আহসান (২২), মো. আলিফ হোসাইন (২১), মো. রবিউল সানি (২১), মো. মেহেদী হাসান (১৯), মো. শাহজালাল (৩৭), মো. রফিকুল ইসলাম (৩৮), নুর আলম (৪২) ও মো. সুমন মীর (২৮)।
গতকাল রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হাবিব ও শাহজালাল এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মালিবাগের বাজার ও ফুটপাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুবলীগ নেতা অলিউল্লাহ রুবেলের সঙ্গে বিরোধ হয় হাবিব ও শাহজালালের। দুজনই (হাবিব ও শাহজালাল) স্থানীয় চাঁদাবাজ। শাহজালালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৫টির বেশি মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, আধিপত্য বিস্তারের জেরে শাহজালাল এবং নিবিড় নামে আরেকজন মিলে রুবেলকে মারার জন্য হাবিবের সঙ্গে হাত মেলান। তারই ধারাবাহিকতায় হাবিবকে চাপাতি কেনার জন্য চার হাজার টাকা দেন নিবিড়। এরপর খিলগাঁও বাজার থেকে দুটি চাপাতি কেনেন হাবিব। পরে ঘটনার আগের দিন শাহজালাল ও হাবিব মিলে রুবেলকে মারার পরিকল্পনা করেন।
ডিএমপির ডিবিপ্রধান বলেন, ঘটনার দিন অনন নামে আরেকজন তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে রুবেলের গতিবিধি লক্ষ করতে থাকেন। পরে রুবেল রিকশাযোগে বাসার দিকে রওনা হলে অনন সেই খবর হাবিবকে জানান। এ খবর পেয়ে হাবিব ও আলিফ চাপাতি নিয়ে রুবেলের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তখন মেহেদী হাসান ও সানি রাস্তার দুই পাশে পাহারায় ছিলেন। পরে রুবেলকে রিকশায় দেখতে পেয়ে হাবিব এবং আলিফ চাপাতি নিয়ে এগিয়ে এলে রুবেল দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় পেছন থেকে হাবিব ও আলিফ তাকে ধাওয়া করেন। আলিফ রুবেলের মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ দিলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর হাবিব ও আলিফ চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পালানোর সময় চাপাতি রাস্তার পাশে ফেলে দেন। পরে রুবেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় আর কে কে জড়িত এমন প্রশ্ন করা হলে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। অননসহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
