যেমন দেখলাম ওপেনহাইমার

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ১০:৫৮ পিএম

ওপেনহাইমার তখনও ক্যাম্ব্রিজের ছাত্র। পড়াশোনা করেন পদার্থবিদ্যায়। তরুণ ওপেনহাইমারের প্রচুর প্যাশন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় যা তার উৎকর্ষে এনে দিচ্ছে মহাবিশ্বের রহস্য। কিন্তু ল্যাবে তাকে দিয়ে হচ্ছে না সহজ থেকে সহজতর পরীক্ষা। যার কারণে ক্রমাগত শিকার হচ্ছেন ভবিষ্যৎ নোবেল বিজয়ী প্যাট্রিক ব্লকিটের অত্যাচারের। একই পরীক্ষা বারবার করানো হয় তাকে। সব মিলিয়ে লাঞ্ছনা, তত্ত্বের বিরহ, যুক্তরাষ্ট্রের স্মৃতি-সব মিলিয়ে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে তরুণ ওপেনহাইমারের জীবন। আর সইতে না পেরে বিষপ্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করেন শিক্ষক ব্লাকিটকে।

কিন্তু একটা জীবন নেয়ার সাংঘাতিক অপরাধবোধ শুধু অসহ্যের স্তূপ বাড়ায়। বেঁচে যান ভবিষ্যৎ নোবেলজয়ী ব্লাকিট। অথচ একটি প্রাণ নিতে দ্বিধা করা এই ওপেনহাইমারই একদিন বলবে, ‘আজ আমি মৃত্যু, দুনিয়ার ধ্বংসকারী’।

এ কাহিনী মর্মস্পর্শীভাবে সোনালী পর্দায় তুলে ধরেছেন ব্রিটিশ পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। ভ্যান হয়টেমার অসাধারণ সিনেম্যাটোগ্রাফি আর লুডভুইগ গোরানসন-এর ভয়ানক সুন্দর আর সাসপেন্সফুল স্কোরে সোনালী পর্দায় ফুটে উঠেছে তরুণ, নম্র ওপেনহাইমাররের পারমাণবিক বোমারজনক আর দুনিয়া ধ্বংসকারী হওয়ার গল্প।

পুরো তিনটি ঘণ্টায় এক মুহূর্তের জন্য রোমাঞ্চ আর ভীতি ছাড়া রাখেননি নোলান। দুর্দান্ত অভিনয় সম্পন্ন এ সিনেমায় দর্শকদের তিনি দেখিয়েছেন ওপেনহাইমারের চোখে দেখা দুনিয়া। দেখিয়েছেন তার পায়ের নিচের মাটি কীভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তারই হাতে বানানো বোমায়। হিরোশিমা আর নাগাসাকির লাখ লাখ মানুষ হয়ে গেছে ছাই। সে ছাইয়ে ডুবেও কীভাবে শেষ হচ্ছে না তার অপরাধবোধ, কীভাবে বেঁচে আছেন বছরের পর বছর মৃত্যু হয়ে।

যদিও ওপেনহাইমার ভেবেছিলেন তার তৈরি বোমায় সমস্ত পৃথিবীতে আগুন লাগা অসম্ভব, কিন্তু মানুষের হাতে সেই আগুন লাগানোর মশাল ঠিকই ধরিয়েছেন আমেরিকান প্রমেথিউস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত