জন্মগতভাবেই ইব্রাহিমের দুই হাত ও পা বাঁকা। হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করেন। ঠিকমতো কিছু ধরতেও পারেন না। তবে পা দিয়ে কম্পিউটার চালনায় পারদর্শী তিনি। লোগো ডিজাইনসহ গ্রাফিক্স ডিজাইনের বেশকিছু কাজ আয়ত্ত করেছেন। ইব্রাহিম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের উত্তর চৌহাটি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ২৩ বছর বয়সী ইব্রাহিম দিনাজপুর ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ডিআইএসটি) কম্পিউটার সায়েন্সের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী। ডিপ্লোমা শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছেন, ফলাফল প্রকাশ হয়নি এখনো। সংসারের হাল ধরতে গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ক একটি চাকরি খুঁজছেন তিনি।
ইব্রাহিমের তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড় ভাই ও বোনের বিয়ে হয়েছে। এখন বাবা-মাসহ তিনজনের সংসার। ছোট একটি টুলে ভর দিয়ে চলাফেরা করতে হয় তাকে। এভাবেই ছোট থেকে বড় হয়েছেন। স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত যাওয়া-আসা করেছেন। পড়াশোনা করে নিজেকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করেছেন।
বর্তমানে পার্বতীপুর শহরে মেসে থেকে একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে সময় দেন ইব্রাহিম। ওই সেন্টারে প্রশিক্ষকের কাজ করেন তিনি। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, কিবোর্ডে পা দিয়ে অনবরত টাইপ করে যাচ্ছেন ইব্রাহিম। পা দিয়ে মাউস চেপে ফটোশপের মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করেন। কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে বুঝার উপায় নেই ইব্রাহিম একজন প্রতিবন্ধী এবং পা দিয়ে কাজ করছেন।
ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করে অনেক কষ্টে পড়ালেখা করিয়েছেন। আমাকে কেউ চাকরি দিলে আমি নিরাশ করব না। বিভিন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, মার্কেটিং প্রমোশনের কাজগুলো করতে পারি। আমাদের এলাকার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা মধ্যপাড়া পাথরখনিতে একটা চাকরি হলে খুব ভালো হয়। তাহলে বাড়ির কাছেই বাবা-মার সঙ্গে থাকা হতো।’
মোফাজ্জল হোসেন নামে ট্রেনিং সেন্টারের তার এক সহযোগী বলেন, ‘আর পাঁচজনের মতো ইব্রাহিম স্বাভাবিক না হলেও, ভালো কাজ শিখেছে। সে পড়ালেখা এবং কম্পিউটারকে অনেক ভালোবাসে। ফটোশপ, গ্রাফিক্স ডিজাইন, মার্কেটিং প্রমোশন এসব কাজ সে ভালো পারে।’
দিনাজপুর ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যক্ষ মো. মামুনুর ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি তার একটা জবের ব্যবস্থা করা যায় কি না। ভর্তির সময় আমি দ্বিধায় ছিলাম, এখন তাকে নিয়ে গর্ব করি।’
