২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সি গ্রুপে ১৫২৭ তম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩১ তম এবং গুচ্ছ অন্তর্ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৮১ তম হয়েও টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দরিদ্র পরিবারের সন্তান আহাদ ইসলামের।
শিক্ষাথী আহাদের স্কুল জীবন থেকেই আর্থিক অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। মেধার জোরে সব বাধা জয় করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও আবার সেই আর্থিক দুশ্চিন্তাই তাকে ঘিরে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পরবর্তী অর্থের যোগান কিভাবে হবে? এই শঙ্কায় দিন কাটছে আহাদ ও তার পরিবারের।
আহাদ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুল্লাহ মন্ডল ও মর্জিনা খাতুনের সন্তান।
আহাদ জানান, তারা দুই ভাই-বোন। বড় বোন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করা অবস্থায় আর্থিক অনটনের কারণে বাবা বোনকে বিয়ে দিয়ে দেন। টাকার অভাবে নামীদামি স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে স্থানীয় হাসিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে ৪.৭৮ পেয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন আহাদ।
তাদের বাড়ির জায়গা মাত্র ৩ শতাংশ, মাঠে কোনো সম্পত্তি নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা অন্যের জমিতে কাজ করে দিনশেষে যে টাকা পান সেটা দিয়েই চলে তাদের সংসার সহ চিকিৎসা ও লেখাপড়া।
ছোটকাল থেকেই সহপাঠীদের বই নিয়ে কখনও কখনও বই ফটোকপি করে লেখাপড়া চালিয়েছেন। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে হতাশা তাকে ঘিরে ধরেছে। ভর্তির জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকাসহ আরও অনেক খরচ কিভাবে জোগাড় হবে এই আশঙ্কায়। আহাদ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে চান। সমাজের বিত্তবানদের কাছে স্বপ্নপূরণের আকুতি আহাদের।
আহাদের মা মর্জিনা খাতুন জানান, তার ছেলে ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। দারিদ্র্যতার মধ্যে দিয়ে অনেক কষ্টে তারা আহাদকে লেখাপড়া শিখিয়ে এ পর্যন্ত এনেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার খরচ অনেক। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই ছেলেকে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
