দ্য আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (এএএফএ) নামে একটি মার্কিন ক্রেতা জোট বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নেতা শহিদুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কাছে পাঠানো চিঠিতে এএএফএ বলেছে, এই হত্যাকাণ্ড কেবল শহিদুলের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতিই নয়; বরং বাংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার ও তাদের সামগ্রিক কল্যাণ পরিস্থিতির অবনতির লক্ষণ। বাংলাদেশে শ্রমিক ইউনিয়ন ও নেতাদের ওপর যেভাবে একের পর হামলা করা হচ্ছে, শহিদুল হত্যাকাণ্ড তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট নজির।
এ ক্ষেত্রে এএএফএ মার্কিন সরকারের সঙ্গে একই সুরে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে বিচারের মধ্য দিয়ে কঠোর বার্তা দেওয়ার কথা বলেছে তারা, সেটা হলো, এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ সহ্য করা হবে না।
গত ২৫ জুন গাজীপুর মহানগরীর গাজীপুরা সাতাইশ বাগানবাড়ি এলাকায় এক হামলার ঘটনায় শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলাম মারা যান। তার সহকর্মীরা তখন অভিযোগ করেছিলেন যে শ্রমিকদের পক্ষে বেতন-ভাতা নিয়ে কথা বলায় স্থানীয় অপরাধীদের হামলায় তার মৃত্যু ঘটে। শহিদুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি।
বাংলাদেশের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ওপর সহিংস হামলার পাশাপাশি এসব ইউনিয়নের নিবন্ধন দিতেও বিলম্ব করা হচ্ছে বলে মার্কিন সংগঠনটি চিঠিতে অভিযোগ করেছে।
এএএফএ মনে করে, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ইউনিয়ন গঠনের অধিকার থাকা জরুরি। সেই সঙ্গে যথাযথ শ্রম পরিবেশ এবং বৈরিতামুক্ত শ্রমিক-মালিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশে বর্তমানে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এএএফএ। সংগঠনটি বলেছে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণে ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা জরুরি।
