বাঙ্গড্ডা-হাসানপুর-বক্সগঞ্জ সড়কে যাত্রী পথচারী নাকাল

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৩, ১২:৪২ এএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের পূর্বাঞ্চলের ছয়টি ইউপির দুই লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের এক নাম বাঙ্গড্ডা-হাসানপুর-বক্সগঞ্জ সড়ক। সড়কটিতে পা বাড়ালেই শত শত ছোট-বড় খানাখন্দের হাতছানি চোখে পড়ে। সড়কের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে খানাখন্দ নেই। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটিতে শত শত ছোট-বড় খানাখন্দের কারণে সড়কটি দিয়ে যাতায়াতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। বর্তমানে ভরা বর্ষায় সড়কটির একেকটি ছোট-বড় খানাখন্দে পানি জমে ডোবানালার মতো দেখতে হয়েছে।

সড়কটির এমন দশার মধ্যেই গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ট্রাক-ট্রাক্টর, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল ও পথচারীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন থেকে সড়কটির এমন দশা বিরাজ করলেও এটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। গত বছর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সড়কটির বিভিন্ন স্থান ও বাজারের বড়-বড় খানাখন্দে ইটের সলিং বসিয়ে উঁচু করে কোনোভাবে সড়কটি যাতায়াতের উপযুক্ত করে। কিন্তু তারপরও আরও অনেক ছোট-বড় খানাখন্দ রয়েই যায়। যেগুলো এবার পরিবহন ও পথচারীদের নাকালের কারণ হয়েছে। সড়কটি দিয়ে ছোট-বড় যানবাহনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পথচারীদের যাতায়াতে দুর্ভোগসহ অসুস্থ রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সড়কটি দিয়ে এক ঘণ্টার যাতায়াতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়।সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পূর্বাঞ্চল বাঙ্গড্ডা, রায়কোট উত্তর, দক্ষিণ, মৌকরা, ঢালুয়া ও বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে সড়কটি প্রবাহিত রয়েছে। সড়কটির বাঙ্গড্ডা, মাহিনী, শান্তিরবাজার, ঝাটিয়াপাড়া, তুলাতুলি, হাসানপুর, ঢালুয়া বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এখন সড়কটি চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে কুমিল্লা-বাগমারা-বাঙ্গড্ডা-হাসানপুর সড়কে বাস যাতায়াত করে। কিন্তু বাঙ্গড্ডা থেকে হাসানপুর পর্যন্ত ২০ মিনিটে অতিক্রমের কথা থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

শান্তির বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহআলম বলেন, বেহাল সড়কটি দিয়ে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বাজারের উত্তর পাশে বড় ধরনের একাধিক খানাখন্দের কারণে এখন এটি মরণফাঁদ।

শাহ আলী সুপার সার্ভিস পরিবহনের বাসচালক সাইফুল, শাকিল, আক্কাছ জানান, বাসগুলো একদিন চালালে পরদিনই মেরামত করতে হয়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের লাকসাম অঞ্চলের উপসহকারী প্রকৌশলী বশির খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সড়কটির সংস্কারকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সড়কের কিছু অংশ সাময়িকভাবে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত