বিএসএমএমইউ ভিসির পিএস রাসেলকে দায়মুক্তির সুপারিশ

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৩, ০১:৫৬ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যের একান্ত সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাসেলের বিরুদ্ধে চাকরির প্রতিশ্রুতিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি। মামুন নামের এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত চার সদস্যের কমিটি ওই অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘অসত্য’ হিসেবে মন্তব্য করে ডা. রাসেলকে দায়মুক্তির সুপারিশ করেছে।

তদন্ত কমিটিতে সভাপতি ছিলেন বিএসএমএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান এবং সদস্য সচিব অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন সিদ্দিক। অন্য দুই সদস্য হলেনÑ জেনারেল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম চৌধুরী এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম সালেক।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. রাসেল বলেন, ‘নিজ জেলা ভোলার এক ছেলের মাধ্যমে ২০২১ সালে সেপ্টেম্বরে পরিচয় হয় মামুনের সঙ্গে। পরিচয় শেষে প্রায়শই অফিসে এসে মামুন চাকরির অনুরোধ করেন। মাঝেমধ্যেই আমার বাসায় মাছ, মাংস ও ফলমূল নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও আমি কখনোই অনুমতি দিইনি। এমনকি ঈদ উপলক্ষে আমার পরিবারের জন্য পোশাক নিয়ে এলে গ্রহণ করিনি, পরে বাসার সিকিউরিটির কাছে সেগুলো রেখে যান। এরপর ভোলার স্থানীয় যুবলীগ নেতা মাকসুদ ও ছাত্রলীগ নেতা ইয়াদ আল রিয়াদের উপস্থিতিতে মামুনকে ডেকে এনে সেগুলো ফেরত দিই। আমার স্ত্রীকেও বিভিন্ন সময় উপহার সামগ্রী এমনকি টাকা-পয়সা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন মামুন। আমাকে ঘুষ বা উপহার দেওয়ার অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম বিনষ্টের অপপ্রয়াস ছিল এসব।’

তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, মামুন তার অভিযোগে ডা. রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগের যে সময়কাল উল্লেখ করেছেন সেটি ভিত্তিহীন। বিভিন্ন সময় উপহার সামগ্রী দেওয়ার বিষয়টিও অসত্য, কারণ কমিটির কাছে মামুন স্বীকার করেছেন তিনি ডা. রাসেল কিংবা তার স্ত্রীর হাতে কখনো কোনো সামগ্রী দিতে পারেননি।

কমিটি তাদের পর্যালোচনায় জানায়, চাকরির জন্য ঘুষ হিসেবে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ডা. রাসেলকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছিলেন মামুন, তবে রাসেল টাকা গ্রহণ করেননি। এছাড়া রাসেলের পরিবারের ৫ সদস্যের জন্য কার্টন কার্টন ফল পাঠানোর অভিযোগের সত্যতা পায়নি কমিটি।

তদন্ত কমিটির সভাপতি বিএসএমএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করেছি ও উভয় পক্ষের বক্তব্যের পর ডা. রাসেলের বিরুদ্ধে মামুন নামের জনৈক ব্যক্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই রাসেলকে দায়মুক্তির সুপারিশ করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত