প্রবল বৃষ্টিপাতে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় হিমাচল প্রদেশে গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টি কারণে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়ায় ভেসে গেছে অনেক ঘরবাড়ি, ধসে পড়েছে মন্দির। এতে করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে পড়ার আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।
সোমবার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এবং টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রবিবার রাতে সোলানের জাদোন গ্রামে ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের কারণে দুটি বাড়ি ধসে একই পরিবারের সাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, এ সময়, কান্দাঘাট মহকুমার মামলিগ গ্রাম থেকে আরও ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, জনপ্রিয় সিমলা শহরের পাহাড়ি এলাকায় একটি শিব মন্দির ধসে নয়জন মারা গেছে। সিমলার ডেপুটি কমিশনার আদিত্য নেগি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, শহরটিতে ভূমিধসের ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জন এখনো মাটির নিচে চাপা রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া ফাগলি এলাকায়, বেশ কিছু বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।
নিহতের ঘটনায় এক টুইট বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। তিনি জানান, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।‘
রাজ্য জরুরি পরিষেবার তথ্যমতে, এ বিপর্যয়ের কারণে রাজ্যজুড়ে ৭৫২টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে হিমাচল প্রদেশ এবং প্রতিবেশী উত্তরাখণ্ডে এ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। দক্ষিণ-পশ্চিম আরব সাগরের মৌসুমি বায়ু হিমালয়ের পাদদেশে আঘাত করায় এ বৃষ্টিপাত বলে জানায় সংস্থাটি।
চলতি বছর বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্য হিমাচল প্রদেশ। রবিবার প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানান যে চলতি বর্ষার বিধ্বংসী প্রভাবের কারণে প্রদেশটিতে ৭ হাজার ২০ কোটি রুপির মত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
২৪ জুন থেকে হিমাচল প্রদেশে শুরু হওয়া বর্ষার প্রভাবে এখন পর্যন্ত ২৫৭ জনের মত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যটির কর্মকর্তারা।
