ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতে না পারার দোহাই বা ওজর সাময়িক হতে পারে, বেশি দিনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। যদি নিয়মিত ফজরের সময় ওঠতে না পারেন, তাহলে আপনার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় এবং ফলে আল্লাহ আপনাকে ফজরে ওঠা থেকে বঞ্চিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে (ফেরেশতাদের সমাবেশে) তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক বাহু অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দুই বাহু অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।’ সহিহ বোখারি : ৭৪০৫
অনেক দোকানিকে দেখা যায়, সেই ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দোকান সাজায়, চায়ের দোকান, মুরগির দোকান এসব কিন্তু নামাজ পড়ে না। তাহলে কি শুধু উঠতে পারা যথেষ্ট? না। আপনি যদি সত্যি আন্তরিক হন, তাহলে একাধিক অ্যালার্ম সেট করবেন, এমন অ্যালার্মও পাওয়া যায় যা বাজলে ঘুমিয়ে থাকা অসম্ভব। এভাবে ঘুম থেকে ওঠার জন্য চেষ্টা না করে, নিয়মিত ফজর কাজা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা পরিষ্কার ফাঁকিবাজি।
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত পৃথিবী এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম।’ দিনের শুরুতেই যদি সমস্ত পৃথিবীর থেকে বেশি ফজিলত মিস করে দিন শুরু করেন, তাহলে কীভাবে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবেন?
