স্বাধীনতা এসেছিল মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে: মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৩৭ পিএম

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মানবাধিকার রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে সচেতন হলে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নীলফামারী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও সুধীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছিল মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আহ্বানে ১৯৭১ সালে মানবাধিকার রক্ষায় অসংখ্য সাধারণ জনগণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করেছে এবং বাঙালি জাতির মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।

এ সময় তিনি জেলা কমিটির সদস্যদের আরো জোরদার ভূমিকা রাখার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন তরান্বিতের আহ্বান জানান।

তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে মানবাধিকার সংস্থা গড়ে ওঠা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রতারক সংগঠন সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং কেউ যদি মানবাধিকার কমিশনের নামে প্রতারিত করে তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন একটা বেআইনি সংস্থা। এ নামে যদি কেউ পরিচয় দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামে কোনো কমিশন বাংলাদেশে নেই। এক সময় একটা ছিল, তারা অনেক অন্যায় করেছে। অনেকভাবে চাঁদাবাজি করেছে। তারা কমিশন বলে পরিচয় দিত, কিন্তু তারা কোনো কমিশন নয়। কোনো বেসরকারি সংস্থা কোনো দিন কমিশন হতে পারে না।

ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন টোটালি ব্যান একটি প্রতিষ্ঠান, এটি অবৈধ। তারা কেউ কমিশন বা কাউন্সিল লিখতে পারবে না। এ ব্যাপারে কোর্টের রায় রয়েছে। প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের কাছে এ রায়ের কপি পাঠানো আছে, যাতে কোনো এনজিও যদি এ পরিচয় দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো সংস্থা অন্যায় করলে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। যথানিয়মে তাদের সেটা নিষ্‌পন্নের চেষ্টা করতে হবে। না হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।

জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য সাবেক সচিব মো. সেলিম রেজা, কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আশরাফুল আলম, কমিশনের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) কাজী আরফান আশিক, কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ গাজী সালাউদ্দিন ও এম রবিউল ইসলাম, নীলফামারী পুলিশ সুপার গোলাম সবুর পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. হাসিবুর রহমান, পৌর মেয়র কৃষিবিদ দেওয়ান কামাল আহমেদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কান্তি ভুষন কুন্ডু, চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি প্রকৌশলী এসএম শফিকুল আলম ডাবলু, ডা. মজিবুল হাসান চৌধুরী, নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তাহমিন জক ববী, জেলা পরিষদের সদস্য ইসরাত জাহান পল্লবী প্রমুখ।

সভায় জেলার ৬ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিতি ছিলেন।

পরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, জেলা কারাগার ও চিলাহাটি আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত