চীনে কোনো নারীর বয়স তিরিশের কাছাকাছি চলে আসার পরও যদি তিনি অবিবাহিত থাকেন, তাদের তাচ্ছিল্য করে ডাকা হয় ‘শেং নু’, অর্থাৎ ‘বাতিল’ কিংবা ‘বাদপড়া মেয়ে’। চীনা সমাজে নারীর প্রতি নেতিবাচক এই দিকটিকে অবশ্য উপেক্ষা করছেন বর্তমানে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাওয়া নারীরা। অনেকেই হচ্ছেন বিয়েবিমুখ। এই প্রবণতায় আবার নেতিবাচক ছাপ পড়ছে চীনের সামাজিক অঙ্গনে। বর্তমানে চীনে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক পুরুষই বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার পরিবারে নানা রকম নিয়মনীতির কারণে মেয়েরাও অনেক পুরুষকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জনসংখ্যার দেশটিতে আগামীতে জাপানের মতো কর্মক্ষম মানুষের অভাব দেখা দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তরুণ বয়সেই বিয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে দেশটির সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এবার চীনের পূর্বাঞ্চলের চাংশান কাউন্টি ঘোষণা দিয়েছে, যদি কোনো তরুণ-তরুণী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ওই নববধূর বয়স ২৫ বছর বা তার কম হয় তাহলে নতুন দম্পতিকে এক হাজার ইউয়ান পুরস্কার দেওয়া হবে।
উপযুক্ত বয়সে প্রথম বিয়ে এবং সন্তান জন্মদানে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এতে সন্তান গ্রহণ করা দম্পতিদের জন্য শিশুর যত্ন, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ছয় দশকের মধ্যে চীনে প্রথমবারের মতো জনসংখ্যা কমছে। পাশাপাশি, দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন চীনা কর্র্তৃপক্ষ জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক প্রণোদনা, শিশুর যত্ন সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। চীনে পুরুষদের জন্য বিয়ের বৈধ বয়সসীমা ২২ বছর এবং নারীদের ২০ বছর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বিয়ের হার হু হু করে কমছে। এর ফলে কমে গেছে জন্মহারও। ২০২২ সালে চীনে বিয়ের সংখ্যা কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৬৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৬ সালের পর থেকে দেশটিতে এটিই সর্বনিম্ন বিয়ের সংখ্যা। ২০২১ সালে এর চেয়ে আট লাখ বিয়ে বেশি হয়েছিল।
