ঢাকায় আসছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৩, ০২:০৩ এএম

ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলন শেষে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা সফরে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ১৯৯০ সালের পর বাংলাদেশে আসছেন ফ্রান্সের কোনো প্রেসিডেন্ট। গতকাল বুধবার দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত উপসহকারী সেক্রেটারি মিরা রেসনিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে ঢাকায় আসছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী পর্যায়ের নিরাপত্তা সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবেই আগামী ৪ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে।

গতকাল ম্যাক্রোঁর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফর নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। জি-২০ সম্মেলন শেষে তিনি ঢাকা আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সফরের বিষয়ে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অনেক ইস্যু।

ম্যাক্রোঁর সফরে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু, নারীর ক্ষমতায়ন, বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোসহ আমাদের অনেক ইস্যু রয়েছে। সেই সঙ্গে নিয়মিত অভিবাসন ইস্যু থাকে। এগুলো আমাদের নরমাল ইস্যু। জলবায়ু বড় ইস্যু, বিশেষ করে ফ্রান্সের সঙ্গে। এ বিষয়ে ফ্রান্স লিডারশিপ রোল প্লে করে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে আমরা বলতে চাই, লস অ্যান্ড ডেমেজ ইস্যুটা তহবিল করার জন্য উদ্যোগ নিন। তিনি টাকা সংগ্রহে উদ্যোগ নেবেন।

তিনি জানান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কাছে যে জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ইস্যু। এটি মোকাবিলায় তহবিল সংগ্রহের জন্য তাকে আমরা বলেছি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এলে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি বড় করে তুলব।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে প্যারিস সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সরকারপ্রধান।

জানা গেছে, ঢাকা সফরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। তিনি ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরা।

৪ সেপ্টেম্বর আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তাবিষয়ক উপসহকারী সেক্রেটারি : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী পর্যায়ের নিরাপত্তা সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক-সামরিকবিষয়ক ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত উপসহকারী সেক্রেটারি মিরা রেসনিক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রটি জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র স্থানান্তর ব্যুরোর অফিসের তত্ত্বাবধান করেন রেসনিক। ব্যুরোর নিরাপত্তা সহায়তা অফিসেরও তত্ত্বাবধান করেন রেসনিক। তার এ সফরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করতে পারে বাংলাদেশ। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের হুমকি হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুটিও আলোচনায় আসতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত