প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানি নেতিবাচক ধারায়

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম

অর্থবছরের শুরু থেকেই প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানি নেতিবাচক ধারায় নামতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস জুলাইয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অথচ গত বছরের একই সময়ে প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানি ছিল ৪৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর এ খাতের রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

ইপিবির তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয় হয়েছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে এ বছর প্লাস্টিক বর্জ্যরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে লক্ষ্যমাত্রার কয়েকগুণ বেশি আয় করা সম্ভব।

রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টে কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার আয়ের। কিন্তু আয় হয়েছে ২৮ লাখ ডলারের কিছু বেশি। অর্থাৎ কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এ খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ১০ শতাংশ।

গত দুই দশকে বাংলাদেশের শিল্প খাতের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে প্লাস্টিক শিল্প। ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর ফার্নিচার, এমনকি দামি পোশাকও তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক থেকে।

বিশ্ববাজারে প্লাস্টিকের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কঠিন চ্যালেঞ্জ। মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য বা অব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রী শত বছরেরও বেশি সময় ধরে অপচনশীল ভাবেই টিকে থাকে।

প্লাস্টিক রিসাইকেলের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কঠিন চ্যালেঞ্জকে শক্তি ও সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, কুমিল্লা, রাজশাহী ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৫ হাজার কারখানা গড়ে উঠেছে। আর এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

চট্টগ্রামে প্রায় ২১টি প্লাস্টিক রিসাইকেলিং কারখানায় প্রতি মাসে ৪ হাজার টনের ওপর প্লাস্টিক রিসাইকেল করা হচ্ছে। চীন, বেলজিয়াম, ভিয়েতনাম, ভারতসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয় এই প্লাস্টিক ফ্লেক্স। সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি শুধু দেশের প্লাস্টিক বর্জ্যই হ্রাস করছে না, সেই সঙ্গে অর্জন হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত