কালিয়াকৈরে জবরদখল ও উজাড় হচ্ছে সরকারি বন

সাবেক কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয়ে মালীর বনবাণিজ্য

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৪৩ এএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক মালীর দাপটে কোণঠাসায় রয়েছেন বন অফিসের (বনবিট) কর্মরত অন্যরা। সাবেক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার আত্মীয়ের পরিচয়ে একাই তিনটি বন অফিসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই মালী। দাপট দেখিয়ে তার বনভূমি বাণিজ্যের ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে বন ও ভূমি। তার কবলে পড়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষও অতিষ্ঠ। অভিযুক্ত ওই মালীর নাম হাসেম আলী। তিনি কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন গাজীপুরের কড্ডা বন অফিসে দায়িত্বরত আছেন।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও বন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এক ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তার (সিসিএফ) আত্মীয়ের পরিচয়ে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন হাসেম। তার দাপটে কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন রগোনাথপুর বন অফিসে কর্মরত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসেমের নেতৃত্বে ওই বন অফিসের সোনাতলা ক্যাম্পের আশপাশে বনের জমি জবর-দখল করছে ভূমিদস্যুরা। এর মধ্যে রয়েছে বনের জমি দখল করে স্থানীয় পারভেজ মিয়ার একটি মৎস্য খামার, বন বিভাগের সৃজিত বাগান কেটে ফিরোজ মিয়ার ধান চাষ ও মৎস্য খামার, সোনাতলা বাজারে কয়েকটি দোকান, হোসেন মার্কেট বাজারে দোকান নির্মাণ, হুনাবাড়ি এলাকায় আবুল কাশেমের মৎস্য খামার, ফকির মার্কেট এলাকায় সৃজিত সুফল বাগান কেটে টিনের ঘর, আলাল উদ্দিনের ঘর, বঙ্গবাজার এলাকায় লেহাজ উদ্দিনের ঘর নির্মাণ। বনের জমি এভাবে জবর-দখলে সহায়তা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মালী হাসেম। তার এমন বাণিজ্যের ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে বনের জমি ও গাছ। এতে পরিবেশ ও প্রাণীকুলের বিপর্যয় ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে টাকা না দিয়ে বাড়ির পুরনো টিন পর্যন্ত বদলানো যায় না। আবার তাকে টাকা দিয়ে কাজ না হওয়ায় ওই ঘুষের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় স্থানীয় মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অনেকে। ওই মালি বন অফিসের কারও কথা শুনে না। কেউ তার কাজে বাঁধে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে চাকরি খাওয়ার হুমকি দেন। এমন দুর্নীতিগ্রস্ত মালীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসেম আলী বলেন, ‘ডিএফও (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) আমাকে কড্ডা, ভাওয়াল মির্জাপুর ও রগোনাথপুর বিট এই তিন অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এখানে আমার একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নাই। যা করি, সবাই মিলেই করি। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এলে তাদের পেছনে অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়। এটা আমাদের বেতন থেকে খরচ করব?’

এ বিষয়ে রগোনাথপুর বন অফিসের কর্মকর্তা মাসুম উদ্দিন বলেন, ‘আমার অন্যত্র পোস্টিং হয়ে গেছে। এখানে আমার বক্তব্য দেওয়ার কিছু নেই। তবে এসব বিষয় জানার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, ‘শুনেছি ওই মালী হাসেম আমাদের পুরনো সিসিএফ স্যারের ভাতিজা। তিনি একসঙ্গে তিনটি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে ওপর থেকে আমাদের চাপ আসবে। তারপরও তাকে তার নিজ কর্মস্থলে পাঠানোর জন্য চেষ্টা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত