গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা

ডেঙ্গু রোগী ঢাকায় না পাঠানোর নির্দেশনা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৩০ এএম

ঢাকার বাইরে জেলা-উপজেলা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে না পাঠাতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেছেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় যে গাইডলাইন করা হয়েছে, তা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিলেই রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। সুতরাং বাইরের ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীকে যেন ঢাকায় পাঠানো না হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর ওই নির্দেশনা দেন। এর আগে দেশের সব সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে ওই সিদ্ধান্ত নেয় অধিদপ্তর এবং বৈঠকেই এ ব্যাপারে সবাইকে নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হয়।

ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, এত দিন ঢাকায় ডেঙ্গু রোগী বেশি ছিল। এখন ঢাকার বাইরে বেশি হচ্ছে। ডেঙ্গুর চিকিৎসার বিষয়ে যে গাইডলাইন করা হয়েছে, সেটি প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানো হয়েছে। চিকিৎসকরা সেই গাইডলাইনের বিষয়ে জানেন। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে কোনো রোগীকে অপ্রয়োজনে ঢাকার বাইরে না পাঠাতে নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর চিকিৎসায় মূল বিষয় ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট। যখন রোগীর রক্তচাপ কমে যাচ্ছে, তখন যথাযথ সময়ে রোগীকে আইভি ফ্লুইড দিতে হবে। সেটি দেওয়ার জন্য বড় ধরনের কোনো যন্ত্রপাতি বা বড় হাসপাতালের প্রয়োজন নেই। তাই প্রান্তিক পর্যায়ে যে রোগী শকে আছে, তাকে সেই শক ম্যানেজমেন্ট না করে যদি ঢাকায় পাঠানো হয়, তাহলে পথের লম্বা সময় রোগীকে আমরা নিশ্চিত হারাব। তাই যত খারাপ রোগীই হোক, যে যেখানে আছে, সেখানেই যদি চিকিৎসা নেয়, তাহলে রোগীদের বিপর্যয় হবে না।’ তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে যেখানে আছে, সেখানেই চিকিৎসা নিক।

দেশে স্যালাইন সংকট নেই : ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় স্যালাইনের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুদের মাধ্যমে স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কৃত্রিম এ সংকট মোকাবিলায় স্যালাইন আমদানি করা হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় তিন লাখ স্যালাইন আমদানি করবে সরকার। গতকাল রাতেই স্যালাইনের প্রথম চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘স্যালাইনের বিষয়ে আমরা সব সময় সতর্ক ছিলাম। ডেঙ্গু ক্রাইসিসের আগে থেকেই ওষুধ প্রশাসনসহ যেসব প্রতিষ্ঠান স্যালাইন উৎপাদন করে, তাদের সঙ্গে আমরা বসেছি। আমরা হিসাব করে দেখেছি, হাসপাতাল ও এর বাইরে যে পরিমাণ রোগী রয়েছে, সেই পরিমাণ স্যালাইন আমাদের রয়েছে। এখানে সংকট হওয়ার কথা না। তারপরও অতিরিক্ত রিজার্ভ হিসেবে আমরা স্যালাইন আমদানি করছি। আমরা সতর্ক আছি যেন স্যালাইন সংকট না ঘটে।’

অসাধু ব্যবসায়ীরা স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব ক্রাইসিস মুহূর্তে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় উপাদান মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করে। স্যালাইনের ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে। এটি শক্ত হাতে প্রতিরোধ করার জন্য আমরা সিভিল সার্জনদের নির্দেশনা দিয়েছি। তারা মোবাইল কোর্ট, ভোক্তা অধিকারের সহায়তা নিয়ে স্থানীয় ফার্মেসিসহ সব স্থানে অভিযান চালাবেন। কেউ যদি অবৈধভাবে স্যালাইন মজুদ করে, তাহলে সেসব বাজেয়াপ্ত করাসহ জেল-জরিমানা করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, ডেঙ্গু রোগী সারা দেশেই পাওয়া যাওয়ায় কিছু স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু সরকারের কাছে যে পরিমাণ স্যালাইন আছে, তাতে এই সংকট কৃত্রিম বলেই মনে হয়। এরপরও মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তে জরুরি ভিত্তিতে কিছু স্যালাইন আমদানি করা হয়েছে। গতকাল রাতে এই স্যালাইনের প্রথম চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আজকের মধ্যে যেসব জায়গায় ঘাটতি আছে, সেখানে তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ জন্য একটি তালিকাও করেছে অধিদপ্তর।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে তিন লাখ স্যালাইন আসবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া আট বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিসে বাফার স্টক হিসেবে স্যালাইন রাখা হবে।

অবৈধ ক্লিনিক ও স্যালাইন মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান : অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে ফের অভিযানে নামছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ জন্য জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

ডা. আহমেদুল কবীর জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে ফের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের তথ্য পাচ্ছেন। যারা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফের অভিযানে নামবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একযোগে সারা দেশে এই অভিযান পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীর জন্য আইসিইউ লাগে না। কিন্তু কিছু ক্লিনিক আছে যাদের আইসিইউর তেমন সুবিধা নেই। তবুও রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আইসিইউতে রাখে। এসব বিষয়ে অধিদপ্তর নজর রাখছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সিভিল সার্জনদের বলা হয়েছে একটি সমন্বয় টিম করার জন্য। সিভিল সার্জন, ভোক্তা অধিকার এবং লোকাল ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে একটি অভিযান চালানোর জন্য বলা হয়েছে। যেসব ফার্মেসি কিংবা ক্লিনিক স্যালাইন মজুদ করেছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অনুপযুক্ত আইসিইউ যাদের আছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আবার অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত