কারো কাছে মিনি কক্সবাজার, আবার কারো কাছে প্রকৃতির রূপসী কন্যা নামে পরিচিত পারকি সমুদ্রসৈকত। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত এই সৈকতে বছরের ১২ মাসই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। আগামী ২৮ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এটি উদ্বোধনের পর সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকাংশ বাড়বে। দেশি-বিদেশি এসব পর্যটকের আকর্ষণের অন্যতম স্পট সৈকতের ঝাউবন।
কিন্তু সুরক্ষায় উদ্যোগ না থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন এলাকাটি ধ্বংস হতে চলেছে। সমুদ্রের করাল গ্রাসে প্রতিনিয়ত সাগর গর্ভে বিলীন হচ্ছে সারিবদ্ধ ঝাউবন। তাই সবুজ বেষ্টনী খ্যাত ঝাউবন রক্ষায় সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে পারকি সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সর্বপ্রথম ১২ হেক্টর জাায়গায় ঝাউবন গড়ে তোলা হয়। এরপর ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ১৭ দশমিক ২ হেক্টর,২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৫ হেক্টর ও ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ৫ হেক্টর জায়গায় ঝাউবাগান সৃজন করা হয়। চার বারে বালিয়াড়ির মোট ৩৯ দশমিক ২ হেক্টর বা ৯৭ একর জায়গায় লাগানো হয় ঝাউগাছ। এতে সৈকতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হয়। সবুজের সমারোহে সৈকতে এক মনোরম দৃশ্য ফুটে উঠে। কিন্তু বছর দশেক থেকে সমুদ্রের ঢেউয়ের ঝাপটায় শুরু হয় বালুক্ষয়। আর অব্যাহত বালুক্ষয়ে ভাঙতে শুরু করে ঝাউবন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন ও পর্যটকদের অবহেলা, সমুদ্র থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, সৈকতে যত্রতত্র দোকানপাট গড়ে ওঠাসহ নানা কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। দূষণের ঝুঁকিতে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাগর পাড়ের উদ্ভিদ ও সাগরের জীববৈচিত্র্য।
সরেজমিন সৈকত ঘুরে দেখা যায়, ঝাউ গাছগুলোকে কেন্দ্র করে সৈকতটি গড়ে উঠেছে, সেই ঝাউ গাছগুলোই অস্তিত্ব হারিয়ে বিলীনের পথে। সৈকতের দক্ষিণ অংশের ঝাউবনে দুয়েক সারি গাছ থাকলেও গোড়ালির বালু সরে যাওয়ায় হেলে পড়েছে। উত্তরের ঝাউবনে গাছগুলোর শিকড় থেকে বালু সরে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সৈকতের বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য গাছের মূল।
চট্টগ্রাম জেলা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্ জানান, পারকি সৈকতের মূল আকর্ষণ হচ্ছে ঝাউবন। শুরুর দিকে পারকি ঝাউবন নামেই সৈকতটি পরিচিতি পায়। বেশ কয়েক বছর ধরে সাগরের ঢেউয়ের কারণে ঝাউবনের ভাঙন শুরু হয়। অব্যাহত ভাঙনে অন্তত ২০ হাজারের অধিক ঝাউগাছ বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে বনায়ন করা না হলে এক সময় সৈকতটিও সাগর গর্ভে হারিয়ে যাবে।
উপকূলীয় বন বিভাগের বন্দর বিট কর্মকর্তা মো.আলমগীর কবির বলেন, সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতের ঝাউবনে অনেক গাছ উপড়ে পড়েছে। উপড়ে পড়া গাছগুলো চিহ্নিত করে নিলামে বিক্রির জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তবে সৈকতের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় আপাতত সেখানে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পারকি সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনে ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাই সৈকত সুরক্ষার জন্য নতুন করে সবুজাভ বনায়ন জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে অনুরোধ করা হবে।’