চূড়ান্ত হয়নি আনোয়ারায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভার স্থান

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:০৩ এএম

উদ্বোধনের অপেক্ষায় চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। আগামী ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেলের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে আনোয়ারা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বলে সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সমাবেশের স্থান চূড়ান্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় এমপি ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী শুক্রবার সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য তিনটি স্থান পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কোনোটাই চূড়ান্ত হয়নি।

আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে চায়না ইকোনমিক জোন ও কোরিয়ান ইপিজেড এলাকায় তিনটি স্থান পরিদর্শন করেছেন ভূমিমন্ত্রী। কিন্তু কোনোটাই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এসএসএফ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেতু বিভাগ থেকে সুধী সমাবেশের কথা বলা হলেও সেখানে জনসভা করতে চান আওয়ামী লীগ নেতারা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই আগ্রহের কথা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনসভা আয়োজনের আগ্রহের বিষয়টি সম্প্রতি সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভাতেও আমরা তুলে ধরেছি। দলীয় নেতাদেরও বলেছি। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।’

দলীয় একটি সূত্র জানায়, টানেল উদ্বোধনের পর জনসভা হলে সেটা চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরীর যৌথ উদ্যোগে হবে। তবে স্থানটি কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে হওয়ায় নগরী ও উত্তর চট্টগ্রাম থেকে কর্মী-সমর্থকদের সেখানে যোগ দেওয়া কিছুটা কঠিন হবে। তাই জনসভা না করে সুধী সমাবেশ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জানতে চাইলে, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণত এ ধরনের আয়োজন হলে সেটা যৌথভাবে হয়। তিনি জানান, সেখানে সুধী সমাবেশ হবে নাকি জনসভা করা হবে, এখনো নিশ্চিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জাতিসংঘে অধিবেশনের জন্য নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর এ ব্যপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘১০ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলের পূর্তকাজ ইতিমধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে।

এখন যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক কিছু কাজ চলছে। উদ্বোধনের আগেই তা শেষ হবে। তাই উদ্বোধনের জন্য আমরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।’

বর্তমান সরকার আমলের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আধুনিক সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলীর তলদেশ হয়ে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর নিচে মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩১৫ কিলোমিটার। এর বাইরে পতেঙ্গা প্রান্তে ৫৫০ মিটার এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করা হয়েছে। টানেলের মূল অংশে কর্ণফুলীর তলদেশে তৈরি হয়েছে ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি টিউব।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া গত বুধবার বঙ্গবন্ধু টানেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু টানেল শুধু কর্ণফুলীর দুই তীর বদলে দেবে না সারা দেশে এর প্রভাব পড়বে। তাই টানেল উদ্বোধনের বিষয়টি উৎসবে পরিণত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত