মানি এক্সচেঞ্জে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার দেশি-বিদেশি মুদ্রা জব্দ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:৩৬ পিএম

রাজধানীর দুটি মানি এক্সচেঞ্জে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার দেশী ও বিদেশী মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ লাখ বাংলাদেশী টাকাসহ ৭৪ লাখ বাংলাদেশী টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার শখ সেন্টার ভবনের মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নগদ ডলার কারসাজি ও হুন্ডি প্রতিরোধে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে একাধিক কাউন্টার খুলে গোপনে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রি, রেজিস্টারে অসংগতিপূর্ণ লেনদেন প্রদর্শন, অতিরিক্ত ডলার মজুদ, দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ব্যবসাসহ হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত বেশ কয়েকটি মানি এক্সচেঞ্জের এ সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

অভিযান পরিচালনার সময় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পাওয়া যায় চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিমিটেডে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি কাউন্টারের পরিবর্তে ৯টি কাউন্টার খুলে ব্যবসা করে আসছিল।

প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কাউন্টার থেকে ২৪ হাজার ৮৪ ইউএস ডলার, ৫০ হাজার ৯৫৭ সৌদি রিয়াল, ৪ হাজার ৬৮০ ইউরো, ১ লাখ ১৯ হাজার ভারতীয় রুপি, ৮ হাজার ৮৯০ রিংগিতসহ আরও কিছু বিভিন্ন দেশের মুদ্রা (বাথ, কাতার রিয়েল, দিরহাম, সিংগাপুরী ডলার) এবং বাংলাদেশের ১৯ লাখ ১২ হাজার ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়।

এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ‘বকাউল মানি এক্সচেঞ্জে’র সঙ্গে জড়িত দালাল জামাল উদ্দিন সিকদার নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে যথাযথ উৎস বহির্ভূত অবৈধ ৫ হাজার ৮৭৮ রিংগিত, ১ হাজার ৩৫ দিরহাম এবং ৫ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপিসহ কিছু পরিমাণ সিংগাপুরী ডলার জব্দ করা হয়।

অভিযানকালে পল্টন এলাকার মানি এক্সচেঞ্জগুলোর সঙ্গে নিয়মিত লেনদেনকারী ভ্রাম্যমাণ দালাল ও হুন্ডি ব্যবসায়ী মো. মকবুলের কাছ থেকে ৫৫ হাজার সৌদি রিয়াল, ৩ হাজার ৭০ ইউরো, ১ হাজার ৫৫০ রিংগিত এবং ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ বাংলাদেশী টাকা জব্দ করা হয়।

অভিযান চলাকালে বেশ কয়েকজন দালাল ও হুন্ডি ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এক্সচেঞ্জগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত দামে নগদ ডলার ক্রয়-বিক্রয় করতে না পারার অযুহাতে অতিরিক্ত কমিশনের বিনিময়ে এক্সচেঞ্জগুলোর পক্ষে দোকানের বাইরে ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় ফরেন কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। এ ছাড়াও দালাল চক্রের একটি অংশ ভারত থেকে কাপড় বা পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী আমদানির আড়ালে এলসির আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের টাকা হুন্ডি হিসেবে ব্যবহার করছে। আর এই হুন্ডির টাকা লেনদেনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের গোপন সংকেত। এ বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও বড় পরিসরে অভিযানের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা সচেতন ও তৎপর রয়েছে।

পুরানা পল্টনের শখ সেন্টারের অন্যান্য, হক, নিউট্রাল, জনতা, পাফ, মেক্সিমকো, বকাউল, লিগ্যাল,ইস্টার্ন ইউনিয়ন মানি এক্সচেঞ্জে দিনভর এই অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য মালিক পক্ষকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযানে প্রাপ্ত অবৈধ ফরেন কারেনন্সিসহ বাংলাদেশী টাকা এবং চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জের চারজন ও দুজন ভ্রাম্যমাণ দালালসহ মোট ছয়জন আসামিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জের আহমেদ নোমান, মোহাম্মদ মাসুদ আলম, এমএম জাকারিয়া ও শিহাব উদ্দিন মৃধা, ভ্রাম্যমাণ দালাল মোহাম্মদ মকবুল হোসেন এবং বকাউল মানি এক্সচেঞ্জের মো. জামাল উদ্দিন শিকদার। এদের মধ্যে নোমান পলাতক রয়েছেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পল্টন মডেল থানায় ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট-১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সিআইডি নিয়মিত মামলা রুজু করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত