শিকারের অতীত বর্তমান

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:৪০ পিএম

মানুষ একসময় বেঁচে থাকার জন্য পশুপাখি শিকার করত। বহু পথ পাড়ি দিয়ে সেই শিকার মধ্যযুগে সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে ওঠে। বিশে্বর নামকরা শিকারিরা কেবল পশু শিকারই করেননি, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পক্ষেও কথা বলেন। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া   

শিকারি এবং সংরক্ষণবাদী শব্দ দুটি একেবারেই বিপরীত। প্রথমটি বন্যপ্রাণী শিকার যারা করে, তাদের বলা হয় আর বন্যপ্রাণী থেকে শুরু করে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষাকারীরা সংরক্ষণবাদী। প্রথম দল প্রাণ সংহার করে আর পরের দল প্রাণরক্ষার কথা বলে। মজার বিষয় হলো, গত শতাব্দীতে প্রথম বিশে^র পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা বিশ্বাস করা শুরু করেন, ন্যাচারাল ইকোসিস্টেম বা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে শিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শিকার ও শিকারির অনুপাত নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে এমনটা সম্ভব। শিকার বা শিকারির প্রসঙ্গ এলে অবধারিতভাবে জিম করবেটের নাম আসবেই। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এই শিকারি ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের ঘন জঙ্গলে কয়েক ডজন মানুষখেকো বাঘ ও চিতাবাঘ শিকার করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে এটাও মাথায় রাখা জরুরি, করবেট সংরক্ষণবাদীও ছিলেন। তার বন্দুক থেকে ছোড়া গুলি যেমন একদিকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও তাদের আবাসস্থল ফুঁড়ে বের হতো, তেমনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পক্ষেও তাকে কথা বলতে দেখা যায়। জিম করবেটের ক্ষেত্রে শিকারি ও সংরক্ষণবাদী শব্দ দুটি ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে না। তিনি এমন বেশ কয়েকটি বাঘ মেরেছিলেন, যেগুলো স্থানীয় গ্রামবাসীদের জখম করেছিল। বাঘের আক্রমণে কয়েকজনের প্রাণও যায়।           

শিকারের গুরুত্ব

ইতিহাসবিদরা দীর্ঘদিন মনে করতেন, আমাদের আদি পূর্বপুরুষরা মৃত বা আহত প্রাণীর মাংস খেয়ে বেঁচে থাকতেন। পরে এই ধারণায় পরিবর্তন আসে। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হেনরি বান বলেন, ‘কমপক্ষে ২০ লাখ বছর ধরে মানুষ বড় প্রাণী শিকার করে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা শিকারের পদ্ধতি পরিবর্তন করে, যা জটিল থেকে জটিলতর হয়।’ প্রাচীন যুগের প্রাণীদের জীবাশ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অধ্যাপক বান আবিষ্কার করেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা বন্যপ্রাণী শিকার করতেন, সেগুলো কবে মারা যাবে বা অসুস্থ হবে, তার জন্য অপেক্ষা করে থাকতেন না। শিকারের জন্য তারা সাধারণত বয়স্ক প্রাণী বাছাই করতেন। গাছে বসে প্রাণীদের একত্র হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন তারা। এরপর সেগুলোকে বর্শা দিয়ে আঘাত করা হতো। অধ্যাপক বানের আবিষ্কার মানবদেহের বিকাশ বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে যুগের পর যুগ ধরে মানব মস্তিষ্ক যেভাবে বিবর্তিত হয়, তার সঙ্গে শিকারের সম্পর্ক নিরূপণ করা সহজ হয়। বান মনে করেন, মানুষ যখন শিকারের অস্ত্র বানানো শিখল, তখন সে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার তথা শক্তির সন্ধানও পেয়ে গেল। এর আগে মানুষ শক্তির জন্য শাকসবজি ও ফলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। দেহে প্রোটিন প্রবেশ করার পর মানুষের মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটে। অন্য জীবের চেয়ে মানব মস্তিষ্কের আকার বড় হতে থাকে। মার্কিন বিজ্ঞানলেখক রবার্ট আরড্রের মতে, আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রাণী শিকারের তাড়না বর্শা ও কুড়ালের মতো অস্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে।            

মানুষের শিকারের ধরনে পরিবর্তন বিশে^র নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যেও প্রভাব ফেলে। ইসরায়েলের ইতিহাসবিদ ইয়ুভাল নোয়াহ হারারির মতে, মানবজাতির উৎপত্তি আফ্রিকা মহাদেশে। সেখানে তাদের একার বিবর্তন হয়, তা নয়। তাদের আশপাশের প্রাণীরাও একই সময়ে বিবর্তিত হয়। মানুষ যেমন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ শিকারি হয়ে ওঠে, তেমনি শিকারির হাত থেকে বাঁচতে জীবজন্তুও নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করা শুরু করে। এসব কৌশলের একটি ছিল দৌড়ের গতিবৃদ্ধি। এ কারণে আফ্রিকার বড় প্রাণীরা আমাদের পূর্বপুরুষদের হাত থেকে কখনো কখনো পালিয়ে বাঁচতে পারলেও পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের প্রাণীদের দৌড়ানোর গতি বেশি না হওয়ায় শিকারির হাতে তাদের ধরা পড়তে বেশি সময় লাগত না।                     

প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা মানুষকে পাকা শিকারিতে পরিণত করে। প্রাচীন যুগে কেবল মানুষের কাছেই অস্ত্র থাকত, অন্য কোনো প্রাণী অস্ত্র তৈরি করতে পারত না এমনটা দীর্ঘদিন বিজ্ঞানীরা মনে করলেও সাম্প্রতিক সময়ে গবেষকরা এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। ২০০৭ সালে গবেষকরা জানান, পশ্চিম আফ্রিকার শিম্পাঞ্জিরা লাঠি থেকে বর্শা বানাতে শিখেছিল। সেসব বর্শা দিয়ে তারা ছোট প্রাণী শিকার করত। মানুষের বাইরে অন্য প্রাণীও যে অস্ত্রের সাহায্যে শিকার করতে পারত, তা ওই প্রথম জানা যায়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিল প্রুয়েৎজ বলেন, ‘পশ্চিম আফ্রিকার শিম্পাঞ্জিরা হাত ও দাঁত দিয়ে গাছের ডাল ছিঁড়ত। এরপর তারা ডালগুলোর একদিক ধারালো করত। সেসব ডাল দিয়ে তারা দিনের বেলা গাছের গর্তে ঘুমিয়ে থাকা ছোট নিশাচর প্রাণীদের আঘাত করত।’    

শুরু যেভাবে

বিশে্বর অনেক জায়গায় শিকারকে ধর্মীয় আচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। একটা সময়ে মনে করা হতো, শিকারে সফল হলে স্রষ্টার কৃপা পাওয়া সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে প্রাচীন মিসরের কথা বলা যায়। প্রাচীন মিসরের চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্যে শিকার বারবার উঠে আসে, কারণ মিসরীয়রা মনে করত, এর মধ্য দিয়ে দেবতাদের সন্তুষ্ট করা যাবে। সামাজিক মর্যাদা ও কর্র্তৃত্বের সঙ্গে শিকারের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। শিকারের ক্ষমতাকে বরাবরই সাহসিকতা, শক্তি ও দক্ষতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে শিকার ছিল বিশেষ অধিকার। ইউরোপে মধ্যযুগে অভিজাত শ্রেণির মানুষ শিকার করা উপভোগ করতেন। এটি ছিল তাদের কাছে অর্থ ও ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম। শিকারে তারা একা যেতেন না। সঙ্গে থাকত ডজনখানেক কুকুর, ঘোড়া ও বাজপাখি। ১৫২০ সালে ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি ও ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফ্রান্সিসের শিকারের কাহিনি হয়তো অনেকে জানেন। ইতিহাসের পাতায় ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা আছে। ওই সময় ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫২০ সালে ফ্রান্সের কেলে শহরের কাছে এক তৃণভূমিতে হেনরি ও ফ্রান্সিস শিকার অভিযানের পরিকল্পনা করেন। দুই রাজার সঙ্গে ছিলেন তাদের অমাত্যরা। তারাও রাজাদের সঙ্গে শিকার, তীর-ধনুক ছোড়া ও ঘোড়ার পিঠে চড়ে দৌড়ানোর প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। শিকারের সময় ফ্রান্সিস ও হেনরির মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করত। কে কয়টা প্রাণী শিকার করতে পারলেন, এ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলত তাদের মধ্যে। শত্রুতা থাকলেও শিকার অভিযানের সময় দুজনের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা একসঙ্গে নৈশভোজ করতেন, নিজেদের তাঁবুতে আড্ডা দিতেন, যা শিকারের আগে কেউ কল্পনাই করতে পারতেন না। ফ্রান্সিস ও হেনরির শিকার অভিযান ইউরোপের অন্য দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশ্বের কূটনৈতিক ইতিহাসে ঘটনাটিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ সেটি মধ্যযুগে ইউরোপের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছিল।   

শিকারের উপনিবেশায়ন

সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিকারকে ব্যবহার করার রীতি সম্ভবত ঔপনিবেশিক ভারতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ২০১৮ সালে ইম্পেরিয়াল কালচার অ্যান্ড হান্টিং ইন কলোনিয়াল ইন্ডিয়া বইয়ে লেখক বিজয়া রামাদাস মান্ডালা এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তার মতে, শিকার ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অপরিহার্য অংশ। ব্রিটিশ অভিজাত শ্রেণি এটিকে বিনোদন হিসেবে দেখত। এর মধ্য দিয়ে তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব বিস্তার করত। এ ছাড়া ভারতীয় রাজারা ব্রিটিশ প্রভুদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের লক্ষ্যে মাঝেমধ্যেই শিকারের আয়োজন করতেন। ঔপনিবেশিক আমলে বন্যপ্রাণী শিকার এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, ১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শুধু বাঘই মেরেছিল ১ হাজার ৫৭৯টি। এক সময় মানুষ বেঁচে থাকার জন্য পশু শিকার করতে বাধ্য হতো। সেই শিকারই কালের বিবর্তনে মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীতে অবশ্য বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ শিকারকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

পরিবেশগত প্রভাব

যেসব দেশ শিকারকে অনুমোদন দিয়েছে, তাদের এই পদক্ষেপের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র থেকে সমস্যাবহুল প্রজাতিকে সরিয়ে ফেলা। উদাহরণ হিসেবে ১৯৩২ সালে অস্ট্রেলিয়ার কথা বলা যায়। ত্রিশের দশকে দেশটিতে ইমুর সংখ্যা হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়। তারা দেদার কৃষকদের ফসল নষ্ট করা শুরু করলে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের সংখ্যা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়। ইমুদের আবাসস্থলে পাঠানো হয় একদল সেনা, যাদের কাজ মেশিনগানের সাহায্যে পাখিগুলোকে হত্যা করা। কাজে নেমে অল্প সময়ের মধ্যে সেনারা বুঝতে পারলেন, কাজটা যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল, ততটা সহজ নয়। ইমু বেশ চালাক ও দ্রুত গতিসম্পন্ন প্রাণী। তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া কঠিন। ওই অভিযান অচিরেই ব্যর্থ হয়। অভিযানের কমান্ডার মেজর গুইনিড মেরেডিথ বলেন, ‘আমাদের যদি এমন কোনো সৈন্যদল থাকত, যেখানে তাদের সহায়তায় নিয়োজিত রাখা হতো অনেক ইমু এবং সেগুলোর শরীরে বাঁধা থাকত বুলেট, তাহলে পৃথিবীর যেকোনো সেনাবাহিনীকে আমাদের ওই সৈন্যদল পরাজিত করতে পারত।’ অস্ট্রেলিয়া সরকার আজও তাদের নাজুক বাস্তুতন্ত্র থেকে ইমুদের নির্মূল করতে পারছে না এবং ক্ষেতে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সহ্য করে যাচ্ছে।

বন্যপ্রাণীর উৎপাত থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা ছাড়াও শিকারের আরও ইতিবাচক দিক আছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিহাসবিদ জন মেকেঞ্জি ১৯৯৭ সালে তার দ্য এম্পায়ার অব নেচার বইয়ে লেখেন, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ‘মহান শ্বেতাঙ্গ শিকারির’ ধারণা রূপান্তরিত হয়ে ‘মহান শ্বেতাঙ্গ আলোকচিত্রীতে’ পরিণত হয়। জিম করবেটের মতো বিখ্যাত শিকারিদের ওই সময় পরিবেশ রক্ষার অগ্রদূত হিসেবে দেখা হতো। তারা জাতীয় পার্ক ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।              

বিশ্বের অনেক দেশে লাইসেন্স বিক্রির মাধ্যমে শিকারকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। লাইসেন্স বিক্রির অর্থ প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যয় করা হয়। যেমন জিম্বাবুয়ে। দেশটি শিকারের লাইসেন্স বিক্রি করে সেই অর্থ অবৈধ শিকার বন্ধের প্রচারণা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগে খরচ করে। এ ছাড়া কয়েকটি দেশে ট্রফি শিকারের (এক ধরনের শিকার যেখানে শিকার করা বন্যপ্রাণীদের ট্রফি হিসেবে প্রদর্শন করা হয়) চল আছে। এটিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সফল কৌশল হিসেবে দেখা হয় কারণ দেশগুলো ট্রফি শিকারকে সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করে। এমনকি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডও এ ধরনের শিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ট্রফি শিকার সেসব দেশের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর, যেখানে বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনা বা আয় নেই।

১৯৯০ সালে নামিবিয়া সরকার স্থানীয় সম্প্রদায়ের হাতে নির্দিষ্ট বনাঞ্চলের মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার আইন করে। এই আইন করার উদ্দেশ্য স্থানীয়রা বনাঞ্চলের মালিক হলে সেক্ষেত্রে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী শিকারের সময় তাদের মনে হতে পারে, তারা প্রতিবেশীর সম্পদে হাত দিচ্ছে। ওই আইনের ফলে নামিবিয়ায় অবৈধ শিকার কমে যায়। দেশটির ২০ শতাংশের বেশি বনাঞ্চল এখন স্থানীয়রা সংরক্ষণ করছে। এ ছাড়া ৪৪ শতাংশ বনাঞ্চল কোনো না কোনোভাবে উন্নয়ন প্রকল্পের হাত থেকে রেহাই পায়। ১৯৯০ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের স্বার্থে ওই আইন প্রণয়নের পর নামিবিয়ায় বন্যপ্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত