ইরান যুদ্ধ থামাতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল মার্কিন সিনেট

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:০২ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নির্দেশমূলক একটি বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ৫০-৪৮ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে, এই মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিলটি পাস হয়েছিল। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের একাংশের মধ্যে চলমান এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাত নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন প্রণয়নের পর এই প্রথম কংগ্রেসের উভয় কক্ষ মিলে কোনো প্রেসিডেন্টকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে শত্রুতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশমূলক কোনো প্রস্তাব পাস করল।

সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত রিপাবলিকান দলীয় আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে এই ভোটটি তার জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবে দলের বেশ কয়েকজন সদস্য ইতিমধ্যে ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধী অবস্থানে গিয়েছেন। এর আগে, ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অস্ত্রবিরোধী’ তহবিল এবং ৭০ বিলিয়ন ডলারের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বিল নিয়েও রিপাবলিকানদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছিল।

সম্প্রতি রয়টার্স ও ইপসোস-এর জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন আমেরিকানের মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন ইরান যুদ্ধের পেছনে যে ব্যয় হয়েছে, তা যৌক্তিক। এছাড়া অধিকাংশ আমেরিকানই মনে করেন, তেহরানের সাথে বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

হোয়াইট হাউস শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অসাংবিধানিক এবং এটি তাদের ওপর বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। মঙ্গলবার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই ভোটাভুটির কোনো আইনি গুরুত্ব নেই, কারণ এই প্রস্তাব প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয় না। তাছাড়া গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই সংঘাতের অবসান ঘটেছে বলে হোয়াইট হাউস দাবি করছে।

অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। ১৯৮৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছিল, আইনি বৈধতার জন্য এমন প্রস্তাব প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর বা ভেটোর জন্য পাঠানো প্রয়োজন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো স্কট অ্যান্ডারসন বলেন, নির্বাহী বিভাগ সাংবিধানিক অজুহাতে এটিকে উপেক্ষা করতে পারে এবং এটি প্রয়োগ করার জন্য কারা মামলা করতে পারবে তা অস্পষ্ট।

তবে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির প্রবক্তা গ্রেগরি মিকস এটি মেনে চলার জন্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা জোর দিয়ে বলছেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়।

হোয়াইট হাউস বর্তমানে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির আলোচনা করছে। কংগ্রেসের এই কঠোর অবস্থান ট্রাম্পকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা থেকে বিরত থাকতে চাপে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা আরও জানিয়েছেন যে, তারা যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত আরও বিল তুলবেন যাতে রিপাবলিকানদের এই ইস্যুতে অবস্থান পরিষ্কার করতে বাধ্য করা যায়।

পাশাপাশি, ২০১৫ সালের একটি আইন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত কোনো শান্তি চুক্তি হলে কংগ্রেসের তা পর্যালোচনা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো শান্তি চুক্তি হলে কংগ্রেস তা পর্যালোচনা করবে।

মঙ্গলবারের এই ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এবং ডেভিড ম্যাককরমিক ভোটদানে বিরত ছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত