চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে টানা দুই দিন তল্লাশি চালিয়েও বাঁশখালীর সেই হাসান আলীর কাটা মাথার সন্ধান পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাসান আলীর গ্রেপ্তার হওয়া পুত্রবধূ আনারকলিকে নিয়ে গত রবিবার তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে পিবিআইর চট্টগ্রাম মেট্রো শাখার একটি দল। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নগরীর আকমল আলী রোডে ছোট ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীরের বাসায় ৬২ বছর বয়সী হাসান আলীকে খুন করে তার মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলা হয়। পরে মরদেহের কিছু অংশ পুত্রবধূ আনারকলির ব্যবহৃত ট্রলিব্যাগে করে ফেলে দেওয়া হয় পতেঙ্গায় ১২ নম্বর ঘাটের খালপাড়ে। আর কিছু অংশ ফেলা হয় আকমল আলী রোডের খালে।
এ ছাড়া আরেকটি ব্যাগে করে হাসানের কাটা মাথা ফেলে দেওয়া হয় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস খান জানান, গত শুক্রবার হাসান আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার পুত্রবধূ আনারকলিকে মহেশখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শনিবার আদালতে হাজির করলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। পিবিআইর তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাসান আলী হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূ আনারকলি সরাসরি অংশ নেননি। তবে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র, লাশ গুম করতে প্লাস্টিক বস্তা এবং হত্যার আলামত গোপনে সহযোগিতা করেছেন। খুনের পর শ^শুর হাসানের কাটা মাথা পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে তিনিই ফেলেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। পিবিআই মেট্রো শাখার এএসপি মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধারের পর গত দুই দিন আনারকলিকে নিয়ে হাসানের সেই কাটা মাথা উদ্ধারে অভিযানে নামে পিবিআই।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে তন্ন তন্ন করেও সেই কাটা মাথার সন্ধান পাওয়া যায়নি। আগামীকালও (আজ মঙ্গলবার) তল্লাশি অভিযান চালানো হবে।’ গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে পতেঙ্গা থানা এলাকার ১২ নম্বর ঘাট এলাকার খালপাড়ের ঝোপ থেকে ট্রলিব্যাগ ভর্তি হাসানের হাত-পা ও আঙুলের ৮ টুকরা উদ্ধার করে পুলিশ। আঙুলের ছাপ নিয়ে হাসানের পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই। ২৩ সেপ্টেম্বর আকমল আলী রোড এলাকা থেকে হাসানের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে পিবিআই। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা করে। ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করে পিবিআই। হাসান খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম এবং বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে আদালতের নির্দেশে মা-ছেলেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করলে তাদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখনো পলাতক হাসানের ছোট ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর। পিবিআই জানায়, হাসান আলী দীর্ঘ ২৭ বছর পরিবার থেকে আলাদা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরে আসেন। তবে এর আগে হাসানকে মৃত উল্লেখ করে বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। তিনি ফিরে আসায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কের জমির ভিলার ৭ নম্বর বাসায় স্ত্রী ও সন্তান মিলে তাকে হত্যা করেন।
