দর্শক সবচেয়ে পছন্দ করেছে টাবুর সঙ্গে আমার কেমেস্ট্রি

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০১:০২ এএম

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত ঢাকাই অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের বলিউড অভিষেক হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’ ওয়েব ফিল্মটি। এ নিয়েই বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

‘খুফিয়া’র জন্য কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

আমি আসলে অভিভূত। কারণ এই অল্প সময়ে দেশের এবং ভারতের এত মানুষের ফোন, এসএমএস, ফেসবুকে লেখালেখি দেখছি, তাতে সত্যিই অবাক হয়েছি। আসলে কাজটি দেখার জন্য আমার দর্শক অনেক দিন ধরেই অপেক্ষায় ছিলেন। ‘খুফিয়া’র টিজার-ট্রেলারে আমাকে অল্প একটু দেখানো হয়েছিল। তারপরও সবাই সেটিকে এত পরিমাণ শেয়ার করেছে, যেটা বলার বাইরে! আর ফিল্মটি রিলিজের পরও একই রকম সাড়া পাচ্ছি। ডেফিনিটলি নানা জনের নানা মন্তব্য আছে, কিন্তু সবচেয়ে ভালো লেগেছে তারা কাজটি দেখে তারপর কথা বলছেন। সবার আসলে ভালো লাগা, মন্দ লাগা এক রকম হবে না, এটাই স্বাভাবিক। তাই কাজ দেখার পর মানুষের আলাদা আলাদা মন্তব্য পাচ্ছি। এটাই তো একটি কাজের সার্থকতা।

কোন ধরনের মন্তব্য বেশি পাচ্ছেন?

বেশিরভাগ দর্শক জানিয়েছেন- আমার অভিনয়, ন্যাচারাল উপস্থিতি এবং কনফিডেন্ট তাদের ভালো লেগেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো টাবুর মতো অভিনেত্রীর সামনে অভিনয় করেছি। এটা নিজের কাছেই ভালো লেগেছে। দর্শক সে কথাই বলছেন যে টাবুর সামনে আমার উপস্থিতি মøান মনে হয়নি। দুজন ব্যালেন্স করে কাজ করতে পেরেছি। দর্শক এ-ও বলছেন, টাবুর সঙ্গে সিনেমায় আমার যে কেমেস্ট্রি, সেটি তারা সবচেয়ে পছন্দ করেছেন। আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে, ভারতীয় মিডিয়ায় খুফিয়ার সেসব রিভিউ বেরিয়েছে তাতে আমার চরিত্র ‘অক্টোপাস’ নিয়ে আলাদা করে দুটি লাইন অন্তত লেখা আছে। ভালো লেগেছে যে, সমালোচকরা আমার কাজটিকে নোটিস করেছেন।

বলিউডের নির্মাতা অনুরাগ ক্যাশপ আপনার বন্ধুর মতো। তিনি কোনো মন্তব্য করেছেন?

আমি তাকে টেক্সট করেছিলাম। সে বলেছে, আমি দেখে তোমাকে জানাব। মনে হয় এত অল্প সময়ে দেখে উঠতে পারেনি। তাই তার কেমন লাগল তা এখনো জানতে পারিনি।

‘খুফিয়া’র অক্টোপাস আর ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে খেতে আসেনি’র মুশকান দুটিই রহস্যে ঘেরা চরিত্র। মুশকান থেকে অক্টোপাসকে আলাদা করতে কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

দুটো চরিত্র রহস্যঘেরা হলেও সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ। অক্টোপাসের পেশা, প্রতিদিনের অভ্যাস, ভালো লাগা, মন্দ লাগাÑ সবই আলাদা হওয়ায় চরিত্রটি নিজের মধ্যে ধারণ করতে সহজ হয়েছে। যতই আমার লুক আলাদা করা হোক না কেন, মানুষটা তো আমি একজনই। ফলে আউটলুকের চেয়ে আমি চরিত্রটির ভেতরের বিষয়ে বেশি জোর দিয়েছি; যাতে চরিত্রটি আগের চেয়ে আলাদা হয়। অক্টোপাসের আচরণ, স্বভাব, কথা বলা, মানসিক গঠনÑ এসবের ওপরেই তো তার ব্যক্তিত্ব নির্ভর করে। তাই চরিত্র দুটি আলাদা করতে আমার খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। তা ছাড়া ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ করার সময় আমি যে ধরনের স্কুলিংয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, সেটি পরের সব কাজে সাহায্য করছে। এ ছাড়া আমি সৌভাগ্যবান যে ভালো ভালো নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সাদ তো আমার ভিত্তিটা গড়েই দিয়েছেন, এরপর বিশাল ভরদ্বাজ, সৃজিত মুখার্জি কিংবা শঙ্খ দাশগুপ্ত আমাকে আরও পলিশ করেছেন।

আপনার বলিউড অভিষেক নিয়ে এ দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। পুরো কাজ দেখার পর অভিনেত্রী হিসেবে এই জার্নিকে কতটা সফল মনে করছেন?

সেটা তো আসলে দর্শক বলবেন। তবে আমার মনোভাব জানতে চাইলে বলব, শুরু থেকেই জানতাম আমি কী করেছি, কতখানি করতে পেরেছি। কাজটি নিয়ে কখনোই বাড়িয়ে কিছু বলিওনি। কাজটি দেখার পরও আমার অনুভব আগের মতোই। যা প্রত্যাশা করেছিলাম, তেমনি হয়েছে কাজটি। আর দর্শকের যে সাড়া পেয়েছি তাতে মনে হচ্ছে তাদের প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। পুরোটা পূরণ হয়নি। কারণ তারা আমাকে আরেকটু বড় চরিত্রে দেখতে চেয়েছিলেন। টাবুর সঙ্গে আমার কেমেস্ট্রি আরও বেশি দেখতে চেয়েছিলেন। কারণ ছবিতে আমার বেশিরভাগ দৃশ্যই টাবুর সঙ্গে।

‘খুফিয়া’তে আপনি চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর একটা সমালোচনা হয়। ঢাকার প্রথম সারির কয়েকজন অভিনেত্রী নাকি কাজটি ছেড়ে দিয়েছেন চরিত্রটি দেশের বিরুদ্ধে যায় বলে! কাজটি মুক্তির পর তেমন কোন সমালোচনা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কী এখনো চুপ থাকবেন?

এটা নিয়েও আসলে আমি কিছু বলব না। এটা বলার দায়িত্ব এখন আপনাদের! এ ধরনের মন্তব্য তো আমার ছিল না যে আমি এটা নিয়ে কথা বলব। এত দিনও এই মন্তব্যের বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করিনি। কারণ, অন্যের দেওয়া মন্তব্য আমি নিজের গায়ে কেন মাখতে যাব? এটা আমি সচেতনভাবেই করেছি, এখনো তাই। আমাকে আপনারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন যদি আমার দেওয়া কোনো মন্তব্যের বাইরে কিছু দেখে থাকেন সিনেমাটিতে। আশা করছি আমি যা যা বলেছি, তার সবটাই সিনেমায় আপনারা পাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত