আমাদের শিক্ষক, শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষা দর্শন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০১:২০ এএম

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। সেই মেরুদন্ড গড়ার দায়িত্ব থাকে শিক্ষকের হাতে। তারা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি মেধা বিকাশ, নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা তথা সার্বিকভাবে আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। একজন মানুষের জীবনে মা-বাবার পরেই জীবন গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন শিক্ষক। শিক্ষকদের সম্মান জানানোর জন্য ইউনেসকো ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবরের ৫ তারিখে বিশ^ব্যাপী উদযাপন করে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

শিক্ষক ও শিক্ষাদান প্রক্রিয়া একে অপরের পরিপূরক। সে কারণেই শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পেশাকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য তাদের বেতন, আবাসন, প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিবেশ উন্নত করার ওপর ইউনেসকো জোর সুপারিশ করে চলছে। সে জন্য শিক্ষকদের সব বিষয় বিবেচনা করে একেক বছর একেকটি প্রতিপাদ্য বিষয় নির্বাচন করে থাকে। এ বছরের শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘কাক্সিক্ষত শিক্ষার জন্য শিক্ষক : শিক্ষক স্বল্পতা পূরণ বৈশ্বিক অপরিহার্যতা’।

শিক্ষকরা শুধু পড়ালেখা শেখানোই নয়, পাশাপাশি জীবনে সফল হতে নানা উপদেশ দেওয়া, নৈতিকতা শেখানো, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে শেখানোও খুব যতেœর সঙ্গে করে থাকেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেই বুঝতে পেরেছিলেন শিক্ষাই হলো মুক্তির হাতিয়ার। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনা করে আমরা দেখতে পাই, তার লক্ষ্যই ছিল শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার ধারণাটি প্রতিষ্ঠা করা। বঙ্গবন্ধু বাস্তবায়ন করেছিলেন কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন। যেটা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বৈজ্ঞানিক শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা।

বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ তৈরি করতে হবে। তাই তিনি  শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমানেও বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শনকে শিক্ষকদের মুক্তির হাতিয়ার বলা যায়।

বাংলাদেশে শিক্ষার হার বাড়লেও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন জাতি বিনির্মাণে আমরা এখনো কাক্সিক্ষত জায়গায় যেতে পারিনি। নানা সময়ে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুষ-দুর্নীতিতে শিক্ষক ও প্রশাসন জড়িয়ে পড়ার খবরও শোনা যায়। অনেক জায়গায় অদক্ষ ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সুশাসন বিঘ্নিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের গবেষণাকর্ম চুরির মতো ঘটনা আমাদের হতাশ করে। এসব কারণে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি।

লেখক : গবেষক ও কথাশিল্পী

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত