দেড় বছরের কাজে চার বছর পার, শেষ হয়নি অর্ধেকও

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩৩ এএম

কাজের মেয়াদ ছিল ১৮ মাস। এর মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। কিন্তু মেয়াদ শেষের পর আরও ৩৩ মাস চলে গেছে। কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। টাঙ্গাইলের সখীপুরে মডেল মসজিদের নির্মাণকাজের এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। গণপূর্ত বিভাগ বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও সক্ষমতার অভাবে কাজ যথাসময়ে শেষ হয়নি। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, কর্তৃপক্ষ সময়মতো টাকা দিতে না পারায় নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি।

টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সখীপুর উপজেলা চত্বরে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১০ মে। মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। দরপত্রের মাধ্যমে ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবনের নির্মাণকাজ পায় টাঙ্গাইলের ‘কেএসবিএল-আরএসি’ নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৪০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিতব্য মসজিদের নিচতলার আয়তন হবে ১২ হাজার বর্গফুট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার প্রতিটির আয়তন হবে সাত হাজার ৮০০ বর্গফুট। কাজ শুরুর পর মূল ভবনের প্রথম তলার একাংশের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ওই অংশের সিঁড়ির কাজ আংশিক শেষ করার পর থেকে আর ঠিকাদারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় ভবনের নির্মাণকাজ।

সম্প্রতি নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বাকি অংশে রড বের হয়ে রয়েছে। রডে মরিচা ধরেছে, বিমে শ্যাওলা ও আগাছায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সারোয়ার আলম খান বলেন, ‘কর্র্তৃপক্ষ সময়মতো টাকা দিতে না পারায় নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে বড় অঙ্কের লোকসান এড়াতে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

গণপূর্ত বিভাগ টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১৮ মাসের কাজে তিনবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মূলত ঠিকাদারদের গাফিলতি ও সক্ষমতার অভাবেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স বাতিল ও পুনঃদরপত্র আহ্বানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন দরপত্রে নির্মাণ খরচ বেড়ে যাবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল মডেল মসজিদ নির্মাণ করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত ঠিকাদারের চরম গাফিলতিতে নির্মাণকাজ ধীরগতিতে হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে অনেকবার কথা হয়েছে। এখনো যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে অচিরেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত