গত ২০০ বছরের বাঙালি মনীষীদের বিভিন্ন বিষয়ে লেখা শ্রেষ্ঠ চিন্তামূলক লেখার সংগ্রহ প্রকাশ করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইস্ফেন্দিয়ার মিলনায়তনে এই প্রকাশ উৎসব হয়েছে।
১৬টি বিষয়ের ২০৮ খন্ডের এই সংগ্রহের পৃষ্ঠাসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪ হাজারেরও বেশি। এটি সম্পাদনা করেছেন ২২ জন সম্পাদক। উপস্থিত সম্পাদকদের নিয়ে এই বিশাল সংগ্রহের ৫টি বিষয়ের ৫৪টি বই প্রকাশের মাধ্যমে ‘বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহ’র শুভসূচনা করেন এই সংগ্রহের প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, অধ্যাপক হারাধন গাঙ্গুলী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, অধ্যাপক প্রদীপ রায়, অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, অধ্যাপক শোয়াইব জিবরান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, কেন্দ্রের কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।
স্বাগত বক্তৃতায় কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন বলেন, জাতির বিনির্মাণে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ৪৫ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এই কাজটি সবচেয়ে বড়।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তার বক্তৃতায় বলেন, ‘গত ২০০ বছরে বাঙালির চিন্তার জগতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে গেছে। আমরা রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মনীষীদের পেয়েছি। ইউরোপের বাইরে কোথাও যদি রেনেসাঁ ঘটে থাকে তাহলে তা এই বাংলায়। চিন্তার এই ইতিহাস সঞ্চিত আছে বাঙালির চিন্তামূলক রচনাগুলোয়। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, সাময়িকী ও বইয়ে তাদের সেসব ঋদ্ধিধর্মী চিন্তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল সেগুলোর মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ রচনাগুলো আমরা এই সংগ্রহে রাখতে চেষ্টা করেছি। এগুলোর মূল্য অপরিসীম।’
অনুষ্ঠানে চিন্তামূলক রচনার এই সংগ্রহ প্রকাশের শুভসূচনার সঙ্গে সঙ্গে উন্মোচিত হয় একটি ওয়েবসাইটও। | https://bcrs.bskbd.org এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আগ্রহী পাঠক এই চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহের বিষয়, সম্পাদকদের পরিচয়, মূল্য ইত্যাদি জানতে পারবেন।
যে পাঁচটি বিষয়ের ৫৪টি খন্ড প্রকাশিত হলো তা হচ্ছে, ইতিহাসচিন্তা, দর্শনচিন্তা, নারীচিন্তা, বিজ্ঞানচিন্তা ও সংস্কৃতিচিন্তা। আগামী বছরের ৩০ মার্চ নাগাদ এই সংগ্রহের সবগুলো খন্ড প্রকাশিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রকাশনা বিভাগের প্রধান আলাউদ্দিন সরকার।
উদ্বোধনের পর আলোর ইশকুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবের মাধ্যমে সম্পাদকরা তাদের সম্পাদিত বিষয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অধ্যাপক প্রদীপ রায় বলেন, বাঙালি জাতিকে বুঝতে হলে বাঙালি জাতির চিন্তার দর্শনকে জানতে হবে। ‘বাঙালি জাতির দর্শনচিন্তা’ অংশে বাঙালি জাতির চিন্তার দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত উঠে এসেছে।
অধ্যাপক শোয়াইব জিবরান সম্পাদনা করেছেন ‘শিক্ষাচিন্তা’ অংশ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যারা বাঙালির শিক্ষাচিন্তা নিয়ে কাজ করবেন তাদের কাছে এটি বাইবেল হিসেবে কাজ করবে।
প্রকল্প সমন্বয়ক খাদিজা রহমান বলেন, সবার সুবিধার্থে এই বিশাল সংগ্রহের একটি ই-বুক সংস্করণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মূল সংগ্রহটি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রকাশিত হবে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী অনিমা রায়।
