দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯৩ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তির প্রথম তিন দিনের মধ্যেই মারা যাচ্ছে। এসব মৃত্যুর ৭৭ শতাংশ ঘটছে হাসপাতালে ভর্তির প্রথম দিনেই। বাকি ১৬ শতাংশ মারা যাচ্ছে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় দিনের মধ্যে। এ ছাড়া তিন শতাংশ করে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে ভর্তির ৪-৫ দিন ও ৬-১০ দিনের মধ্যে। বাকি ১ শতাংশ মারা যাচ্ছে ভর্তির ১০ দিন বা তার বেশি সময়ের মধ্যে।
গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সপ্তাহের (৮-১৩ অক্টোবর) ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই এক সপ্তাহে ৫৯ জন বা ৭৪ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী মারা গেছে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে। বাকি ১৩ শতাংশ করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু হেমারেজিক (রক্তক্ষরণ ডেঙ্গু) ও এক্সপান্ডেড ডেঙ্গুতে (ডেঙ্গুর কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো হয়ে)। গত সপ্তাহে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ ছিল নারী ও ৪২ শতাংশ পুরুষ। অথচ এ সময় ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৫৯ শতাংশ নারী ও পুরুষ ৪১ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১১ জন। তাদের মধ্যে আটজন ঢাকায় ও তিনজনের ঢাকার বাইরে মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই মাসের গত ১৫ দিনে মারা গেল ১৮০ জন। অর্থাৎ এই ১৫ দিন দৈনিক গড় মৃত্যু ছিল ১২ জন করে। এ নিয়ে এই বছর মারা গেল ১ হাজার ১৬৯ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় মারা গেছে ৭৩০ ও ঢাকার বাইরে ৪৩৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩৬৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ৫৩৭ ও ঢাকার বাইরে তিনগুণের বেশি, অর্থাৎ ১ হাজার ৮২৬ জন। এ নিয়ে এ মাসের গত ১৫ দিনে রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ২০৮ জন। এ নিয়ে এই বছর দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় রোগীর সংখ্যা ছিল ৯২ হাজার ৫ জন ও ঢাকার বাইরে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০৯ জন। বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৮ হাজার ১৭৪ রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি আছে ২ হাজার ৪১০ এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৭৬৪ জন।
