পটুয়াখালীর কুয়াকাটার গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির শতবর্ষী ও চারা গাছ এক্সকাভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলে বনের মধ্যে পুকুর তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালী রেঞ্জ কর্মকর্তার হাত থেকে গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাগান ও মাটি রক্ষার দাবি স্থানীয়দের।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত পটুয়াখালীর কুয়াকাটার গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কেওরা, আকাশমনি, বাইংসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতবর্ষী ও চারা গাছ এক্সকাভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে। বনের ভেতরে মাটি কাটার কারণে বড় বড় পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়া বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি চক্র বন থেকে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাকিল বলেন, মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি চক্র বন থেকে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। কেটে নেওয়া মাটি বাঁধ নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখত অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাইনি।
অপর স্থানীয় বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য থেকে দীর্ঘদিন যাবত মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রজাতির শত বর্ষী ও চারাগাছ কেটে মাটি উত্তোলন করছে। এতে প্রতিবাদ করলেই বন বিভাগ থেকে মামলা দিচ্ছে। এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের জন্য বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাইনি। কোনও প্রশাসন এর লাগাম টানতে পারছে না।
কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ২০০৭ সালের সিডরের সময় এই বনাঞ্চল বুক পেতে মোকাবিলা করছে। সিডরে আমার দুই সন্তানকে হারিয়েছি। আমি জানি সন্তান হারানোর ব্যথা কি। এভাবে যদি বন ধ্বংস করে সামনে যে কি অবস্থা হবে তা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। এই সকল অসাধু কর্মকর্তারা তো ঝড় বন্যার সময় থাকবে না। তখন মরতে হবে স্থানীয়দের। তাই দ্রুত মাটি কাটা বন্ধসহ দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষা করতে বলছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমরা তাই বনাঞ্চল রক্ষার জন্য প্রতিবাদ করছি। কিন্তু বর্তমানে মাটি কাটার বিরুদ্ধে যে মুখ খুলে আজাদ বাহিনীর রোষানলে তাকে পড়তে হচ্ছে। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ও বন বিভাগের মামলা থেকে রেহাই পেতে এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রভাবশালী রেঞ্জ কর্মকর্তার হাত থেকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাগান ও মাটি রক্ষার দাবিতে লিখত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিপুর রেঞ্জ অফিসার আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সোমবার (১৬ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে চারজনের জেল জরিমানা করা হয়েছে। বন বিভাগের ভূমি রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। যাতে আর এক ইঞ্চি মাটি কাটা না হয় এজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির শতবর্ষী ও চারা গাছগুলো এক্সকাভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলে বনের ভেতরে মাটি কেটে পুকুর তৈরির মূল হোতাকে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেছে স্থানীয়রা।