আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ৪ জনের ছোট আকারে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনকালীন দুই মাস বাংলাদেশে অবস্থান করবে এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।
ইসির কাছে পাঠানো চিঠিতে ইইউ জানিয়েছে, আগামী ২১ নভেম্বর থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য অবস্থান করবে। এ সময় তাদের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল ভোট পর্যবেক্ষণ করবে। সঙ্গে থাকবেন টেকনিক্যাল টিমের দুই সদস্য।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০টি আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনী উপকরণ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসি। গতকাল বৃহস্পতিবার অশোক কুমার দেবনাথ নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) রিপোর্ট এখনো এসে পৌঁছায়নি। রিপোর্টটা তৈরি হয়েছে শুনেছি। যদি বিএসটিআই রিপোর্ট আজকের (গতকাল) মধ্যে আসে তাহলে ঢাকা অঞ্চলে আমরা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব। প্রথম লটে ৪০ হাজার বক্স পেয়েছি। মোট ৮০ হাজার বক্স এবার কিনেছি। এর মধ্যে ৪০ হাজার সাপ্লাই পেয়েছি। এখান থেকে বিতরণ শুরু করছি। ব্যালট বাক্স, ব্যাগ ও গালা পাঠানোর মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
ইসির এই কর্মকর্তা বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনী সামগ্রী পাওয়ার পর আবার টেস্টে দেওয়া হবে। এই টেস্টে আমরা যদি সন্তুষ্ট হই তাহলে আমরা সেটি মাঠ পর্যায় পাঠাব। আগে টেস্ট যেহেতু বিএসটিআই করেছে, এবারও বিএসটিআই করবে। শুধু ব্যালট বাক্স। অন্য সামগ্রী সামনের সপ্তাহ থেকে যাওয়া শুরু করবে। আজ (গতকাল) থেকে যেগুলো যেতে পারে সেই সরঞ্জামগুলোর মধ্যে ব্যালট বাক্স, ব্যালট বাক্সের ঢাকনা, দুই ধরনের ব্যাগ, গালা রয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যবারের মতো এবারও নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর সময় পুলিশের কাছ থেকে নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সহায়তা নেওয়া হবে। নিরাপত্তার জন্য বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকেই সহায়তা চাইব। সামগ্রীগুলো মাঠ পর্যায়ের পরিবহনের সময় তারা যথাযথ নিরাপত্তা দেবে। এবার তিন লাখের ওপর ব্যালট বাক্স লাগবে। পুরনো ব্যালট বাক্স রয়েছে দুই লাখ ৬৭ হাজার। আমরা ৮০ হাজার কিনেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার বলেন, আমাদের নির্বাচনী অঞ্চল হলো ১০টা। আটটি প্রশাসনিক বিভাগ ও ফরিদপুর এবং কুমিল্লা। আমরা এই দুটিকে অঞ্চল হিসেবে ধরি। ব্যালট বাক্সগুলো অঞ্চলে যাচ্ছে। অন্যান্য মালামাল সরাসরি জেলায় যাবে।
নির্বাচনী বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুইটা মিলে বাজেট হবে। বাজেটটা এখনো ফাইনাল হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমরা বসার পর বাজেট ফাইনাল হবে।
প্রসঙ্গত, ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে ভোটের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।
