উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ৮ বছরে সর্বনিম্নে

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪০ পিএম

অর্থসংকট এতটাই প্রকট যে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি বছর এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যে, করোনাকালীন সময়ের চেয়েও এডিপি বাস্তবায়নের হার পিছিয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক কোনো বছরে এমন খারাপ পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৭ শতাংশ। গতকাল সোমবার বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র দেখা যায়।

আইএমইডির প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের ৫৮টি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে এডিপি বাস্তবায়নে অর্থ খরচ করেছে ২০ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের বিপরীতে তিন মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদিও নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সংস্থাগুলোকে এখন বিদেশি ঋণের প্রকল্পগুলোর ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। গত তিন মাসে সরকারের অর্থায়ন থেকে যে টাকা খরচ হয়েছে এর আগে এত কম অর্থ খরচ করার রেকর্ড নেই সরকারের। এ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের অর্থায়ন থেকে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। যা মোট খরচের ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। কাছাকাছি কোনো সময়ে এর চেয়ে কম খরচ আর হয়নি। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয়েছে ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ. যা চলতি অর্থবছরের চেয়েও বেশি।

এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৭ শতাংশ। এরপর গত কয়েক বছরে একই সময়ে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ২১ শতাংশ। এ ছাড়া বাকি বছরগুলোতে গড়ে ৮ শতাংশের ওপরই ছিল। এমনকি করোনার সময়ও এ হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ও ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৫৩ প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন রয়েছে ১ শতাংশেরও নিচে। 

হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছর এক টাকাও খরচ করতে না পারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো খরচের খাতাই খুলতে পারেনি। এই মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৯৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া তিন মাসে কোনো খরচ করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এই দুই বিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৪৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। 

এদিকে তিনটি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ শূন্যের কোটা পার করতে পারলেও খরচ করতে পেরেছে যৎসামান্য। তাদের বাস্তবায়ন হার এক শতাংশের নিচে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৬টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ৯৭২ কোটি টাকা ২৪ লাখ। তারা খরচ করেছে  মাত্র ৫০ কোটি টাকা, যা এডিপির শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৭টি প্রকল্পের বিপরীতে এডিপি বরাদ্দ ২ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা। খরচের ক্ষেত্রে একই অবস্থা এ বিভাগেরও। তিন মাসে খরচ করেছে বরাদ্দের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয় শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ অর্থ খরচ করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ৮ লাখ টাকা, তারা খরচ করেছে মাত্র ২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা (১.৬৯ শতাংশ)। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ করেছে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ অর্থ। এ ছাড়া মোট বরাদ্দের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১ দশমিক ৩২ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে পেরেছে। 

চলতি অর্থবছরের তিন মাসে খরচ এবং এডিপি বাস্তবায়ন হারে  এগিয়ে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ,  বিদ্যুৎ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়,  সুরক্ষা সেবা বিভাগ, সংসদবিষয়ক বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়সহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত