ড্রেন নির্মাণ না করেই টাকা তুলে নিলেন চেয়ারম্যান

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১১:৪৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন না করেই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পুরো টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দ অর্থে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বহাটি গ্রামে এই ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল।

জানা গেছে, পূর্বহাটি গ্রামে ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও দেড় ফুট প্রস্থের ড্রেন নির্মাণে উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তদারকিতে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ওই ইউপির চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাকসেস টেকনোলজি লিমিটেড। কাজ শেষে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নারী সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরে এই প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা উত্তোলন করার কথা।

উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন এই প্রকল্প তদারকির জন্য উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফেরদৌসকে নিয়োগ করেন। কাজ শেষ না হলেও মো. ফেরদৌস কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে প্রত্যয়নপত্র দেন। গত মে মাসে এই ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ আসে। মো. ফেরদৌস সরেজমিন তদন্ত না করে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে প্রত্যয়ন দেন। আর কাজ না করে ৩০ জুনের মধ্যেই বরাদ্দের পুরো টাকা তুলে নেন ইউপি চেয়ারম্যান। বিষয়টি জানাজানি হলে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৫০ ফুটের মতো ড্রেন নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বহাটির পূর্বকান্দিতে ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় ১০০ ফুট জায়গায় মাটি কাটা হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে প্রায় ৫০ ফুট ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ১৫০ ফুট জায়গায় ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটিই কাটা হয়নি।

ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব পাপিয়া আক্তার জানান, জুন ক্লোজিংয়ের জন্য বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কিছু কাজ করা হয়েছে, বাকিটাও করা হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম গত রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছু কাজ করা হয়েছে, বাকি কাজ দুই-এক দিনের মধ্যে শুরু করা হবে। জুনে টাকা না ওঠালে টাকা ফেরত যাবে, তাই টাকা ওঠানো হয়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস বলেন, ‘জুন মাসে অনেক বিল ছাড় করতে হয়েছে, সে সময় হয়তো এ বিলটিও ছাড় করা হয়েছে। কাজ না করা হয়ে থাকলে আমি ঘটনাস্থলে যাব।’

উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘কাজ না করে বিল ছাড়ের কোনো সুযোগ নেই। এমনটি হয়ে থাকলে আমি খবর নেব, সত্যতা পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একি মিত্র চাকমা বলেন, ‘কাজ না করে বিল উত্তোলন করা হয়ে থাকলে বিষয়টি দুঃখজনক। আমি সরেজমিন যাব, এ বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত