আলহামদুলিল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ জুড়ে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করছেন, এটা দারুণ প্রশংসনীয় কাজ। যারা মডেল মসজিদগুলোর পরিকল্পনা করেছেন, অর্থ দিয়েছেন, শ্রম দিয়েছেন, আমরা তাদের প্রশংসা করি। আল্লাহতায়ালা তাদের উত্তম বদলা দান করুন। বিশেষ করে আমি প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে এ ক্ষেত্রে একটি কথা না বললেই নয়, আমি খোলামেলাভাবেই বলি, যেমন একটা মসজিদ তৈরি করা হয়। মসজিদের একটা শরয়ি বিধান রয়েছে, আকার আছে। মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে যদি সেই শরয়ি রূপ, আকৃতি, আকার, হুকুম-আহকাম না থাকে তাহলে তো সেটা মসজিদের মানমর্যাদা নিয়ে নির্মিত হলো না। মসজিদকে যদি কারুকার্য দিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়, মসজিদ বিনোদন কেন্দ্র হয়ে যায়। যেমন ঢাকার আশপাশে সম্প্রতি কয়েকটি মসজিদ তৈরি হয়েছে, কোনোটা গম্বুজের কারণে, কোনোটা পরিবেশের কারণে, আবার কোনোটা ডিজাইন বা লাইটিংয়ের কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এগুলো এখন বিনোদন কেন্দ্র হয়ে গেছে, সেলফি তোলার কেন্দ্র হয়ে গেছে। কয়েকজনকে তো মসজিদ প্রাঙ্গণে টিকটক বানানোর দায়ে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মানুষ দল বেঁধে মসজিদ দেখতে যাচ্ছে, মসজিদ পরিণত হয়েছে দেখার কেন্দ্রে, এগুলো কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
তাই মডেল মসজিদ নির্মাতা বা যারা দেখভালের দায়িত্বে আছেন, তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, মসজিদ যেন শরয়ি রূপ নিয়ে তৈরি হয় এবং পরিচালিত হয়। মসজিদ যদি তার মানমর্যাদা নিয়ে তৈরি হয়, তাহলে এ মসজিদ সমাজ উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি। আরেকটি কথা, মডেল মসজিদ পরিচালনায় যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে। মডেল মসজিদ পরিচালনায় যদি কোনো বিষয়ে কমতি থাকে, তাহলে এসব মসজিদ সমাজের উন্নয়নে কোনো কাজে আসবে না। মডেল মসজিদগুলোতে যদি সহিহ চিন্তা-চেতনার পরিচালক নিয়োগ দেওয়া না হয়, ইসলামি সংস্কৃতি কেন্দ্র অপসংস্কৃতি কেন্দ্রে পরিণত হবে। অন্যায়ের জিনিস প্রচারের মারকাজ হয়ে যাবে। চিন্তা-চেতনা যদি সঠিক না হয় তাহলে সেখানের শিক্ষাটাও সঠিক হবে না। সুতরাং পরিচালনা পর্ষদ হতে হবে দ্বীনের বুঝবান। দ্বীনের দরদওয়ালা। আলেমদের ছাড়া এটা কখনই সম্ভব নয়। যদি কয়েকটা বিষয় সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তাহলে মডেল মসজিদ দেশের জন্য, সমাজের জন্য মহান কাজ হবে বলে আমি মনে করি।
লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় জাকাত বোর্ড
