প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রদর্শনের নিদর্শন

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩০ এএম

মডেল মসজিদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রদর্শনের একটি নিদর্শন। ইসলাম চর্চার প্রসার, ইসলামের মূল্যবোধ ও মানবিক জাতি গঠনে এ প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে প্রকল্পের আওতায়। ২০২১ সাল থেকে পাঁচ পর্যায়ে ২৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে।

দেশে প্রায় ৩ লাখ মসজিদ রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ দৃষ্টিনন্দন কোনো মসজিদ বা ইসলামি স্থাপনা নেই, যেখানে মুসলমানরা তাদের নামাজ আদায়সহ ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা করতে পারেন। এসব বিবেচনায় ইসলামি মূল্যবোধ উন্নয়ন এবং ইসলামি সংস্কৃতি বিকাশের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়।

মডেল মসজিদের সুযোগ-সুবিধা দেখলে সহজে বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী একটি উন্নত মনন ও মানবিক জাতি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সারা দেশে একসঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণ একটি বিরল ঘটনা। ইসলামের প্রতি মমত্ববোধ ও মুসলমানদের ভালোবেসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের কথা জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

মডেল মসজিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একান্ত আলাপকালে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এসব কথা বলেন।  আলাপকালে মডেল মসজিদ ছাড়া বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করেন। মন্ত্রী জানান, মডেল মসজিদ প্রকল্পের বাজেট ধর্মীয় খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ। এই প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। এটা আলেম-উলামাদের কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আশা করা যায়, ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হবে- ইনশাআল্লাহ। অন্যান্য ধর্মের প্রতি বর্তমান সরকারের অবদান সম্পর্কে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মের মতো অন্যান্য ধর্মের জন্যও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের জন্য নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মন্দির সংস্কার আর উন্নয়ন করা হয়েছে। হিন্দু শ্মশান উন্নয়নে টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অসচ্ছল ও দুস্থ হিন্দু ব্যক্তিদের অনুদান দেওয়া হয়েছে। মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রাথমিক, ধর্মীয় শিক্ষা এবং গীতা শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। খ্রিস্টান ধর্মীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও সরকার সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংস্কার মেরামত উন্নয়নের জন্য সারা দেশে শত শত গির্জা সেমেট্রির উন্নয়নে অনুদান দিয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে। ট্রাস্টের স্থায়ী আমানত ছিল ৩ কোটি টাকা। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তা ৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মীয় প্যাগোডা বা বিহারের সংস্কার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করেন। বর্তমানেও এ প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত