মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত মডেল মসজিদ ইসলামের প্রচার-প্রসার এবং ধর্ম পালনে বড় সহায়ক হবে। মানুষ এসব মসজিদে ইসলাম জানা-বোঝা ও আমল করার সুযোগ পাবেন। মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশের জন্য মডেল মসজিদ এক অনন্য সৃষ্টি; দেশে একজন অনন্যা (শেখ হাসিনা) আছেন বলে এমন সব সৃষ্টি আমরা দেখতে পাচ্ছি। মডেল মসজিদগুলো পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও ধর্মচর্চার বড় সুযোগ তৈরি করেছে; এতে ধর্মীয় ক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতায়ন ঘটবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন মডেল মসজিদ সম্পর্কে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধর্মের প্রতি যে অনুরাগ, বিচক্ষণতা ও মহান আল্লাহর প্রতি তার যে দৃঢ় বিশ্বাস ও ইমান রয়েছে; মডেল মসজিদ নির্মাণ তার বড় উদাহরণ। আল্লাহর ঘর মসজিদ নির্মাণকাজে হাত দিয়ে তিনি নিজে সম্মানিত হয়েছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহতায়ালা প্রধানমন্ত্রীকে ইজ্জত ও সম্মান দান করবেন। নিজস্ব অর্থায়নে সরকার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। অর্থাৎ, জনগণের টাকা দিয়ে এসব মডেল মসজিদ তৈরি করা হচ্ছে।
কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে সৌদি আরব থেকে ১৩৪ কোটি টাকা দেওয়ার একটি প্রস্তাব এসেছিল। সরকার আগ্রহী হলেও পরে সে অনুদান কোনো এক কারণে পাওয়া যায়নি। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কষ্ট পেলেন। কিন্তু মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ থেকে তিনি সরে আসেননি। বরং তিনি নির্দেশনা দিলেন চারটি বিভাগীয় শহর, প্রত্যেক জেলা এবং উপজেলা একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ৫৬৪টি মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এভাবে চিন্তা করলে দাঁড়ায়, মসজিদ নির্মাণে সরকার ১৭ কোটি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এতে প্রত্যেক নাগরিকের আর্থিক অবদানও থাকছে। দেশবাসী মসজিদ নির্মাণকাজে সহায়তা করলেন; প্রত্যেকে জান্নাত পাওয়ার কাজের ভাগীদার হয়ে গেলেন। প্রধানমন্ত্রী শুধু দুনিয়াবি উন্নতির চিন্তা করেন না, তিনি জনগণের পরকালের মুক্তির কথাও চিন্তা করেন।’ তিনি আরও বলেন, মডেল মসজিদগুলোর নকশাও দৃষ্টিনন্দন করে করা হয়েছে। মসজিদগুলোয় নারীদেরও নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমাদের দেশে অধিকাংশ মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয় না। দেশের মডেল মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের সুন্দর আয়োজনের মাধ্যমে মসজিদেও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেন শেখ হাসিনা। মসজিদের গম্বুজ ও মিনারগুলো দৃষ্টিনন্দন রূপে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রত্যেক মসজিদে তিনটি গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মিনার থেকে দূর-দূরান্তের সবকিছু দেখা যায়। এ ছাড়া মডেল মসজিদগুলো চমৎকার আইডিয়া না থাকলে এটা কেউ করতে পারে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য এটা চিন্তা করেন বলে করতে পেরেছেন। মসজিদগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনায় কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, ২০১৭ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হবে আগামী ৩০ জুনে। নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিসহ বেশ কিছু কারণে কিছু মসজিদ নির্মাণকাজের পুনঃদরপত্র করে কাজ করতে হচ্ছে। এসব বাধার কারণে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। এজন্য আর্থিক খরচ না বাড়লেও নির্ধারিত সময়ের পর আবারও সময় বাড়ানো লাগতে পারে।
