নিশাঙ্কার ধারাবাহিকতা নাকি ইব্রাহিম ঝলক

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ০২:১৭ পিএম

ক্রিকেটের সঙ্গে পাথুম নিশাঙ্কার পারিবারিক যোগসূত্র আছে, একথা বলা বোধহয় ভুল হবে না। বাবা সুনিল সিলভা ছিলেন একজন মাঠকর্মী। তবে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করবে ছেলে এটা স্বপ্নেও ভাবেননি সুনিল। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’, এমন ছিল পারিবারিক অবস্থা। সংসার চালাতে নিশাঙ্কার মাকেও করতে হতো উপার্জন। স্থানীয় একটি মন্দিরে ফুল বিক্রি করতেন তিনি। তাদের জন্য ছেলেকে বড় ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্ন দেখা বেশ কঠিন। তবে দারিদ্র্যের শেকল ভেঙে নিজের প্রতিভাকে মেলে ধরতে ঠিকই সক্ষম হয়েছেন নিশাঙ্কা। শত বাধার কাঁটা মাড়িয়ে আজ তিনি শ্রীলঙ্কার জার্সি গায়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। হয়ে উঠেছেন তিন সংস্করণেই দলটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

গলে জন্ম নিশাঙ্কা ছোট থেকেই পছন্দ করতেন ক্রিকেট। স্কুল ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত ২০৫ রানের ইনিংস খেলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে লঙ্কান ক্রিকেটে নজর কাড়তে শুরু করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দিয়ে পেশাদার আঙিনায় পা রাখেন। এরপর কেবল ছুটে চলছেন তিনি।

সামর্থ্যরে ঝলক দেখিয়ে ২০২১ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করেন নিশাঙ্কা, টি-টোয়েন্টি দিয়ে। ওই মাসেই টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যায় তার। সাদা পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচেই দ্যুতি ছড়ান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অভিষেক টেস্টেই তুলে নেন সেঞ্চুরি। গড়েন প্রথম লঙ্কান হিসেবে ঘরের বাইরে টেস্ট অভিষেকে তিন অঙ্ক স্পর্শ করার কীর্তি। সবমিলিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ শ্রীলঙ্কান তিনি। ওয়ানডেতে শুরুতে ছন্দ খুঁজে না পেলেও সময়ের সঙ্গে নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেন নিশাঙ্কা। নিজের দশম ম্যাচে পান ফিফটির দেখা। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন লঙ্কান এই ওপেনার।

বিশ্বকাপ অভিষেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শূন্যতে বিদায় নিলেও ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। টানা চার ম্যাচে করেন ফিফটিÑ পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে আসে ৫১, ৬১, ৫৪ ও অপরাজিত ৭৭ রান। নিশাঙ্কার সামনে আজ আফগানিস্তান চ্যালেঞ্জ। তার ব্যাট থেকে আরেকটি চমৎকার ইনিংসের অপেক্ষায় থাকবে পুরো দল।

আফগানিস্তান আশায় থাকবে ইব্রাহিম জাদরানকে নিয়ে। এই ওপেনার জ্বলে উঠবেন এই প্রত্যাশা করবে দলটি। যেমনভাবে সবশেষ ম্যাচে হেসেছিল তার ব্যাট। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান। সেখানে ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়া বেশ কঠিন। সেই কষ্টকর পথই বেছে নেন ইব্রাহিম। ২০১৭ সালে পেশাদার ক্রিকেট শুরু করা এই ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, টেস্ট দিয়ে। নভেম্বরে তার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকও হয়ে যায়। আফগানদের হয়ে টেস্ট অভিষেকে সর্বোচ্চ ৮৭ রানের রেকর্ড তার। চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পথে দ্বিতীয় ইনিংসে ওই রান করেছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ওয়ানডেতে নিজের চতুর্থ ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে সাড়া জাগান ইব্রাহিম। এই সংস্করণে এরপর রানের জোয়ার চলে তার ব্যাটে। ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেন তিনটি, আরেকটিতে দুই রানের জন্য পাননি তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া।

দআর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও তার পারফরম্যান্স বেশ উজ্জ্বল। এখন পর্যন্ত ৭ ওয়ানডে খেলে করেছেন ৪৫৯ রান। ব্যাটিং গড় ৬৫.৫৭ ও স্ট্রাইক রেট ৯৪.৮৩। ক্যারিয়ারের ৪ ওয়ানডে সেঞ্চুরির দুটিই করেছেন তিনি লঙ্কানদের বিপক্ষে। এই সংস্করণে তার সেরা ১৬২ রানের ইনিংসটিও এই প্রতিপক্ষের সঙ্গে। গত বছর তার খেলা ওই ইনিংসটি আফগানদের হয়ে ওয়ানডেতেই সর্বোচ্চ।

দারুণ ব্যাটিং টেকনিক, দৃঢ় ও ধৈর্যশীল মানসিকতা; ইব্রাহিমের মূল অস্ত্র। শুরুতে দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য তিনি দেখিয়েছেন অনেকবার। আর ধারাবাহিকতা দিয়ে তো মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেনই আফগান ক্রিকেটে। পরিসংখ্যানেও ফুটে ওঠে কতটা ধারাবাহিক তিনি। ওয়ানডেতে আফগানদের হয়ে কমপক্ষে ১ হাজার রান করেছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে তার ৪৯.২৭ গড়ই সবচেয়ে বেশি। এই তালিকায় ৪০ গড়ও নেই দলটির আর কারও। শুধু যে ধরে খেলেন তা কিন্তু নয়, প্রয়োজনে আগ্রাসী ব্যাটিংও করতে পারেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেকে কী রূপে মেলে ধরেন ইব্রাহিম, এটাই এখন দেখার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত