গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে এবার মারা গেল একটি নারী জিরাফ। পার্কে তিনটি নারী জিরাফ থাকলেও বহুদিন ধরেই পুরুষশূন্য ছিল জিরাফ পাল।
পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, মারা যাওয়া নারী জিরাফটি অন্তত তিন বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। পরে একটি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত শেষে পার্কের একটি নির্দিষ্ট স্থানে জিরাফের মরদেহটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ অক্টোবর ক্যান্সারে আক্রান্ত নারী জিরাফটি মারা যায়। এরপর নিয়ম মেনেই শ্রীপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেছেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাফারি পার্কে গত চার বছরের বেশি সময় ধরে তিনটি নারী জিরাফের বসবাস ছিল। এর আগে ২০১৮ সালে শেষ পুরুষ জিরাফের মৃত্যু হলে পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে জিরাফ পরিবার।
তারা জানান, এ পার্কে বেশ কয়েকবার জিরাফ বাচ্চা দিয়েছে। পার্কের আফ্রিকান সাফারিতে হরিণ, জেব্রা, জিরাফ, ওয়াইল্ড বিস্ট, গ্যাজেল, কমনইল্যাণ্ডসহ বেশ কিছু বিদেশি প্রাণীর অবাধ বিচরণক্ষেত্র তৈরি করা হয়। সেখানেই অন্য প্রাণীগুলোর সঙ্গে বাস করছিল তিনটি নারী জিরাফ। তিন বছর আগে প্রাপ্তবয়স্ক একটি নারী জিরাফ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এরপর নিয়মিত চিকিৎসা চলছিল অসুস্থ নারী জিরাফটির।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০১৩ সালে পার্ক উদ্বোধনের পর দুই দফায় আফ্রিকা থেকে ফ্যালকন ট্রেডার্স নামের একটি পশু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২টি জিরাফ আনা হয়েছিল। যার মধ্যে আটটি পুরুষ চারটি নারী। পরে পার্কে আরও চারটি বাচ্চার জন্ম হয়। পার্কে ২০১৭ সালের জুনে প্রথম একটি জিরাফ শাবকের জন্ম হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও তিনটি শাবকের জন্ম হয় সাফারি বেষ্টনীর জিরাফ পরিবারে। এরপর নানা সময় অসুস্থ হয়ে মারা যায় জিরাফগুলো। প্রায় চার বছরের বেশি সময় পুরুষশূন্য থাকায় আর কোনো বাচ্চার জন্ম হয়নি সাফারি পার্কে। এরপর তিনটি নারী জিরাফ ছিল পার্কে। সর্বশেষ আরও একটি নারী জিরাফের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পার্ক স্থাপনের পর বিভিন্ন সময় বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, হরিণ, গয়াল, জিরাফ, জেব্রা, অরিক্স, ক্যাঙ্গারু, আলপাকা, হাতিসহ নানা পশুপাখির মৃত্যু হয়েছে। এ সব মৃত্য নিয়ে তদন্ত করতে নানা সময় কমিটিও গঠন করা হয়।
পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের এত বড় একটি সম্পদ সাফারি পার্ক নানা অব্যবস্থাপনা আর লুটপাটের কারণে ধংস হয়ে যাচ্ছে। এত বড় ক্ষতি হলেও কেউ নজর দিচ্ছে না পার্কের উন্নয়নে কিংবা প্রাণী স্বাস্থ্যের দিকে। শুরুর দিকে পার্কে যত সৌন্দর্য আর পশুপাখির আধিপত্য ছিল তা দিন দিন ম্লান আর ধংসের দিকে যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে পার্কের প্রধান আকর্ষণ কোর সাফারি বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে বাঘ, সিংহসহ বেশ কিছু প্রাণীর বেষ্টনীর নিরাপত্তা প্রাচীর ভেঙে গেলে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। এত দিন হলেও এখনো চালু হয়নি কোর সাফারিতে গাড়ি চরে প্রাণী দেখার সুযোগ। সাধারণ দর্শনার্থীরা পার্কে ঘুরতে এসে আনন্দের বদলে অসন্তোষ আর ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জিরাফ মারা যাওয়ার পর পর নিয়ম অনুযায়ী থানায় জিডি করা হয়েছে। জিরাফ মৃত্যুর খবর দ্রুত সময়ে উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানানো হয়। ময়নাতদন্তের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে মৃত জিরাফের শরীরের বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
বন্য প্রাণী ব্যস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ঢাকা বিভাগের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ বলেন, জিরাফটি নারী ছিল। এটি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর নিয়মিত চিকিৎসা চালানো হয়। বাজেট সাপেক্ষে পুরুষ জিরাফ আনার চিন্তা রয়েছে।