‘আমরা নিজেদের ভালো খেলাটা খেলতে পারছি না’ সংবাদ মাধ্যমজুড়ে এই এক কথাই বলে আসছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক, কোচ, ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবার পর লক্ষ্য ছিল অন্তত সমর্থকদের মনে স্বস্তি এনে দেওয়া জয়ের। অবশেষে তা ধরা দিল বাংলাদেশের হাতে। দিল্লিতে ঘটনাবহুল ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য এ জয়ের বিকল্প কিছু ছিল না। লঙ্কানদের দেয়া ২৮০ রানের লক্ষ্যে ৫৩ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এই জয়ে ৪ পয়েন্ট ও -১.১৪২ নেট রান রেট নিয়ে টেবিলের ৭ম অবস্থানে উঠে এল বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়ায় আবারও সবাইকে হতাশ করে ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম। তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে মাত্র ১৭ রানে। ৫ বলে ২ চারে ৯ রান করেন তিনি। দিলশান মাদুশঙ্কার বলে নিশাঙ্কার হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন তানজিদ। মাদুশঙ্কার দুর্দান্ত ‘টো-ক্রাশিং’ ডেলিভারিতে আউট হয়ে ফেরেন লিটন দাসকে। ভালো খেলতে থাকা লিটনের বিদায়ে ৪১ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লেগ বিফোর হওয়ার আগে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। ২২ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় এ রান করেন লিটন।
এরপর সাকিবের সঙ্গে ১৬৯ রানের জুটি গড়েন শান্ত। সাত রানে ম্যাথিউসের বলে ক্যাচ তুলেছিলেন সাকিব। সেটি ফেলে দেন আসালাঙ্কা। সেই ম্যাথিউসের বলেই তোলা ক্যাচ দারুনভাবে লুফে নেন আসালাঙ্কা। তাতে ফিরে যান সাকিব আল হাসান। ৬৫ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ১২টি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান সাকিব। বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায় ২১০ রানে। এর ১ রান পরেই অধিনায়কের পথ অনুসরণ করেন শান্ত। তাকেও ফেরান ম্যাথিউস, বোল্ড করে। ১২ চারে ১০১ বলে ৯০ রান করে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। এরপর রিয়াদের ২২, মুশফিকের ১০ ও হৃদয়ের অপরাজিত ১৫ রানে জয়ের বন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশ। মাদুশঙ্কা ৩টি এবং ম্যাথিউস ও থিকশানা ২টি করে উইকেট নেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩ বল বাকি থাকতেই ২৭৯ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস চারিথ আসালাঙ্কার দারুণ সেঞ্চুরি, পাথুম ও সাদিরার ৪১ রান ভিত হিসেবে কাজ করে লঙ্কান ইনিংসের। তবে ধনঞ্জয়ের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে দেয় দলটিকে। লঙ্কান ইনিংসের এক পাশ আগলে রেখে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন আসালাঙ্কা। ১০৫ বলে ১০৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এই ইনিংসের পথে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা হাঁকান চারিথ। বিশ্বকাপ অভিষেকে তানজিম সাকিব শিকার করেন ৩ উইকেট। সাকিব ও শরিফুল নেন ২টি করে উইকেট। মিরাজ একটি উইকেট পান।
