ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ঘোষণার পরও শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু অসাধু শ্রমিক নেতা এসব আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন বলেও মনে করেন তারা। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও দাবি করেছেন, তিনিও ব্যবসায়ী, আবার সরকারের সঙ্গেও আছেন। মালিকদের কষ্ট সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির কারণে মজুরি বাড়াতে রাজি হয়েছেন তারা।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর ১৫তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব সন্দেহ প্রকাশ করেন পোশাক ব্যবসায়ীরা। বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী ডেনিম পণ্য প্রদর্শনের লক্ষ্যে আয়োজিত দুদিনব্যাপী এ ডেনিম এক্সপো চলবে আজ বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) পর্যন্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকার বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রেখেই তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে মজুরি বৃদ্ধি করে সাড়ে ১২ হাজার টাকা করার কথা বলেছেন। এতে মালিকদের কষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত তারা (মালিকরা) সেটা মেনে নিয়েছেন।
ডেনিম এক্সপোর এবারের আসরে বাংলাদেশ, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, ভিয়েতনাম, জাপান, ভারত, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ডসহ ১২টি দেশের ৮০টির বেশি কোম্পানি অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত বস্ত্র, পোশাক, সুতা, যন্ত্র, ফিনিশিং সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রদর্শন করছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, শ্রমিকদের সুবিধার কথা আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের পরিবার কার্ড দেওয়ার কথা বলেছেন। তাতে তারা সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার কিনতে পারবে। মজুরি নিয়ে মালিকদের প্রাথমিক প্রস্তাব আরও কম ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তারা সেটা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু তারপরও কেউ কেউ সমস্যা করার চেষ্টা করছে।
মজুরি ঘোষণার পরও কেন আন্দোলন চলছে তা নিয়ে অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, মজুরি বৃদ্ধিতে মালিকপক্ষের প্রস্তাব ছিল ১০ হাজার ৪০০ টাকা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে মানবিক বিবেচনায় তা সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা মালিকরা মেনে নিয়েছেন। এটা মালিকপক্ষের জন্য কঠিন একটা কাজ। কিন্তু মজুরি ঘোষণার পরও কেন আন্দোলন চলছে? এভাবে চললে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের উচিত হবে কারও উসকানির ফাঁদে পা না দিয়ে কারখানা রক্ষা করা।
বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন করা আমাদের অগ্রাধিকার। আশা করছি ক্রেতারাও আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করবে। এজন্য এ খাতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের বিকল্প নেই।
এইচঅ্যান্ডএমের বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক প্রধান জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের পণ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস বাংলাদেশ। আমরা যে দেশেই কার্যক্রম পরিচালনা করি, সেখানকার স্থানীয় নিয়ম মেনে চলি। এজন্য বাংলাদেশে নতুন বেতন কাঠামোতে চূড়ান্তভাবে ন্যূনতম যে মজুরি নির্ধারণ করা হবে, সে অনুযায়ী আমরা মূল্য পরিশোধে রাজি আছি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল মান্নান এবং বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন বক্তব্য দেন।
