কক্সবাজার

কোটি টাকার সেতুতে নিম্নমানের সামগ্রী, তদারকি ‘নেই’

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:০২ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় শিলখালী খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে সেতুর বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা গেছে। যদিও এখনো সেতুর মূল অংশের ঢালাই দেওয়া হয়নি। ঢালাইয়ের জন্য পাশেই রেখে দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের পাথর ও ইটের টুকরা।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা প্রকৌশল অফিসের তদারকি না থাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পেন্ডির সেতুটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সেটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ২০২২-২৩ অর্থ বছরে পেকুয়া এলজিইডি অফিসের তত্ত্বাবধানে কোটি টাকার ওপরে বাজেটে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী শিলখালী ইউনিয়নের বারবাকিয়া-শিলখালী সড়কে এলজিইডির অধীনে ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মিত হচ্ছে।

সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় চট্টগ্রামের পটিয়ার মেসার্স নিপা কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরু থেকেই সেতুটি নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পেকুয়া এলজিইডি অফিস থেকে এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর যেটুকু কাজ হয়েছে তার বিভিন্ন অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এখন ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ছাদ ঢালাইয়ের জন্য পাশেই রাখা হয়েছে নিম্নমানের পাথর ও ইটের টুকরা।

এ বিষয়ে সেতুটি নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘নিউজ করলে কী হবে, যে পরির্দশনে আসবে তাকে আমরা ম্যানেজ করবো।’

তবে এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিপা কনস্ট্রাকশনের স্বত্ত্বাধিকারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, পেকুয়া এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজালাল সেতুটি নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন। কার্যাদেশের সিডিউল না মেনে তার সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে মো. শাহজালাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, নানা দুর্যোগের কারণে বেশ কিছুদিন ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। নকশায় কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখানে অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। ঠিকাদারের সঙ্গেও আমার কোনো আঁতাত নেই।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ জানান, আমাদের কার্যালয় থেকে প্রত্যেকটি উন্নয়নকাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত