রেললাইনের পাশে সিএনজিচালকের লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:৩৭ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নুরুন্নবী (৩৮) নামের এক সিএনজিচালকের লাশ উদ্ধার করেছে লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের নাঙ্গলকোট হাসানপুর রেল স্টেশনের মাঝামাঝি মাঝিপাড়া গ্রাম নামক স্থান থেকে ওই সিএনজিচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নুরুন্নবী পৌর সদরের খান্নাপাড়া গ্রামের মৃত তিতা মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাতে অন্য কোথাও ওই সিএনজি চালককে হত্যা করে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে বলে হত্যাকারিরা পরিকল্পিতভাবে নিহতের লাশ রেললাইন পাশে রেখে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মাঝিপাড়া গ্রামে একটি যুবকের লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে স্থানীয়রা ভিড় করেন। মরদেহ দেখে এটি ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু নয় বলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

এ বিষয়ে মাঝিপাড়া গ্রামের সরওয়ার বলেন, রেল লাইনের পাশে আমার বাড়ি। জীবনে ট্রেনে কাটা অনেক মরদেহ দেখেছি। আজকে যাকে দেখলাম এটি কোনো ট্রেনে কাটা বা ট্রেন থেকে পড়ে মারা যাওয়া লাশের মতো দেখা যায় না। যে স্থানে লাশটি রাখা হয়েছে তার আশপাশে এক কিলোমিটারের ভেতরে কোনো ঘরবাড়ি নেই। এটি একটি নির্জন এলাকা।

নিহতের বড় ভাই আনিসুল হক বলেন, সকালে খবর পাই রেললাইনের পাশে একটি লাশ পড়ে আছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি আমার ভাইয়ের লাশ। এটা ট্রেনে কাটা না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী তানিয়া আক্তার জানান, রাত ১১টার সময় খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে নুরুন্নবী। হঠাৎ তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কলটি রিসিভ করে ঘরের বাইরে চলে যায় নুরুন্নবী।

তানিয়া বলেন, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সে আমাকে বলে, চলে আসতেছি তুমি ঘুমিয়ে পড়। তখন আমি ঘুমিয়ে যাই। রাতে আর সে ঘরে ফিরেনি। সকালে খবর আসে রেল লাইনের পাশে একটি লাশ পড়ে আছে। তখন দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর লাশ। তাকে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে গেছে হত্যাকারীরা। কিছু দিন পূর্বেও সে মিথ্যা একটি মামলায় জেলহাজত খেটে আসছে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী লাকসাম জিআরপি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করি। নিহতের মাথা ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত