সন্তানের পিতৃপরিচয় পেতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর মামলা

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৫২ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আব্দুর রশিদ ভূইয়া (৫০) নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছে তারই গৃহকর্মী। অভিযুক্ত উপজেলার ১৫ নং বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশন সমিতির সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বে রয়েছেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে নাঙ্গলকোট থানাকে মামলাটি এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে আদালতের নির্দেশে থানা মামলাটি এজাহারভুক্ত করেছে। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহকর্মী একজন স্বামী পরিত্যক্তা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে যোগদান করেন। পরিবারের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে চেয়ারম্যান তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে সে গর্ভবতী হয়ে পড়লে চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানায়। চেয়ারম্যান এ বিষয়টি বাইরে কাউকে প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন এবং মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেন পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য। এতে ওই গৃহকর্মী রাজি না হলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন তিনি। নিজ জীবন ও অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে সে চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। গত ২৩ অক্টোবর ওই গৃহকর্মী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তাকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। শেষে নিরূপায় হয়ে গত ৪ নভেম্বর কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন ওই গৃহকর্মী। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি থানায় এজাহারভুক্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নাঙ্গলকোট থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। 

এ বিষয়ে ওই গৃহকর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি চেয়ারম্যানের বাড়িতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজে যোগদান করি। তিনি আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়লে চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানাই। তখন তিনি আমাকে হুমকি দিয়ে তার (চেয়ারম্যান) নাম প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। বাইরের অন্য কারও নাম বলতে বলে। চেয়ারম্যানের ধর্ষণের কারণে আমি গর্ভবতী হয়ে ২৩ অক্টোবর এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিই। আমি আমার সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করলে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাকে ও আমার সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূইয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই নারী একজন স্বামী পরিত্যক্তা। আমি তাকে আমার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ দিই। আমার প্রতিপক্ষের কুপরামর্শে আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করতে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছে। যা সম্পুর্ণ মিথ্যা। কে এ ঘটনা করছে তার বিচার বক্সগঞ্জ হাই স্কুল মাঠে হবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা। 

এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবাশীষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূইয়ার বিরুদ্ধে গত ৪ নভেম্বর কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে ধর্ষণ মামলা হয়। আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি থানায় এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত